paponblog

Monday, 9 May 2016

ওয়াইফাই স্পিড বাড়াবেন কিভাবে জেনে নিন

যারা ওয়াই-ফাইয়ে কাজ করেন তারা অনেক সময় গতি নিয়ে নানা সমস্যায় ভোগেন। আজ ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়াবেন কিভাবে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিষটি নিয়ে টেকডক্টর এ আগে পোস্ট করা হলেও আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ন আলাদা ও ব্যতিক্রম ধর্মী ।
আমরা অনেকেই ইন্টারনেটের ধীর গতি নিয়ে বিরক্ত বোধ করি। ওয়াই-ফাই সংযোগে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলেও অনেক সময় দেখা যায় সংযোগ রয়েছে কিন্তু গতি একেবারেই নেই। অর্থাৎ ইন্টারনেট স্পিড নেই। তবে এই সমস্যা হতে খুব সহজেই মুক্তি মিলতে পারে! তাহলে আসুন জেনে নিই ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর কয়েকটি সহজ পথ।
রাউটারের লোকেশন পরিবর্তন করুণ
ওয়াই-ফাই সংযোগের গতি বাড়াতে হলে প্রথমেই আপনাকে রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন বা অবস্থানের মাঝে সমন্বয় রক্ষা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাউটার বাড়ির ভিতরে আসা ইন্টারনেট তারের খুব কাছাকাছি রাখা হয়ে থাকে। এটা মোটেও উচিত নয়। আবার অনেক সময় রাউটারের অ্যান্টেনার অবস্থান ঠিক করে রাখা হয় না। যে কারণে অ্যান্টেনার থেকে সব দিকে সংকেত পাঠানো এবং রিসিভ করা সম্ভব হয় না। সে কারণে রাউটারকে এমন স্থানে রাখা উচিত, যাতে রাউটারটি সবদিকে সংকেত পাঠাতে পারে অথবা সংকেত রিসিভ করতে পারে।
ওয়্যারলেস রাউটারে উন্নত অ্যান্টেনা যোগ করা
অনেক সময় রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করেও ইন্টারনেটের গতি উন্নত বা বাড়ানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অ্যান্টেনা পরিবর্তন করতে পারেন। রাউটারের চারপাশে যদি অনেক দেওয়াল বা অনেক বাধা থাকে তবে সেক্ষেত্রে একটি এক্সটারনাল অ্যান্টেনা রাউটারের সামনে বা সঠিকভাবে ব্যবহার করে রাউটারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কারণ রাউটারের কার্যক্ষমতা বাড়লে ইন্টারনেটের স্পিডও বাড়বে।
ওয়্যারলেস রিপিটার যোগ করুণ
আপনি ইচ্ছে করলে রাউটারে নেটওয়ার্কের পরিসীমা বাড়ানোর জন্য একটি ওয়্যারলেস রিপিটারের সাহায্য নিতে পারেন। এই রিপিটার রাউটার এবং সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করবে। কম দামে বাজারে এমন অনেক ভালো ভালো রিপিটার পেয়ে যাবেন।
ব্যাকগ্রাউন্ডের ডেটা ডাউনলোড বন্ধ করা
অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা একাধিক কাজের জন্য ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের গতি স্লো হতে পারে। ব্যবহারকারী কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি একাধিক ট্যাব একইসঙ্গে চলতে থাকে তবে ইন্টারনেটের গতি এমনিতেই কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন বা ট্যাব বন্ধ করতে হবে। তাহলে দেখবেন ইন্টারনেটের স্পিড আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তাছাড়াও অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি কমে গেলে রাউটারটি রিস্টার্ট দিয়ে নিলেও কাজ হয়। রাউটারটি রিস্টার্ট দিলে আবার গতি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।
»» read more

ফ্রিলান্সার দের যে ১০টি অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত

একজন অনলাইন ফ্রিলান্সার হিসেবে আপনি যাই কিছু করেন না কেন, এটাকে বর্তমানে একই সাথে সবথেকে স্বাধীন এবং সবথেকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়। ফ্রিলান্সার দের মাধ্যমে যে ধরনের কাজ করানো হয় তাতে সাধারনত ফ্রিলান্সার এবং ক্লায়েন্ট ২ জনেই লাভবান হন। যাক, আমার আজকের আলোচনার বিষয় এটা নয়। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এমন সব অভ্যাস যেগুলো একজন ফ্রিলান্সার -এর মাঝে থাকা উচিত। এই অভ্যাসগুলো না থাকার ফলে বিশেষত ৩য় বিশ্বের লোকজন ফ্রিলান্সার হিসেবে শুরু করে এবং অচিরেই পরাজিত হয় এবং তাদের আগের পেশা বেকারত্বে ফিরে আসে। চলুন দেখে নেই এই ১০ টি আলোচ্য অভ্যাস কি কি।

নিজেকে প্রচার করুন

আপনি যখন শুরু করলেন তখন আপনাকে কেউ চিনে না। আপনি আপনার পরিচিতি আপনার পাবলিক প্রোফাইলগুলোতে এমন কি আপনার ঘরের দরজায় লাগিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটা মনে করলে চলবে না যে অচিরেই কেউ আপনার দরজায় এসে কড়া নাড়বে। বরং, আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজের প্রচার করতে হবে। এটা এমন একটা বিষয় যা বেশিরভাগ মানুষের জন্য বিরক্তিকর। কিন্তু এটাই হচ্ছে টিকে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম উপায়। এইজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল- বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং অন্যান্য কমিউনিটিতে যুক্ত হন, এমন ইভেন্টে যান যেখানে আপনি আপনার উপযুক্ত ক্লায়েন্ট পাবেন, এরকম আরও অনেক কিছু।

প্রতিদিন লিখুন/ ডিজাইন করুন

আমি CPA Elite ফোরামে কোন এক গ্রাফিক ডিজাইনারের সাথে পরিচিত। সে CPA Elite এ যুক্ত হওয়ার কিছুদিন পর এই ফোরামে তার পরিচিত সবাইকে অফার করেছে যে যার যার প্রয়োজন সে তাকে তাকে একটা করে ফ্রিতে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির লোগো ডিজাইন করে দিবে। যেই কথা সেই কাজ। আমার এক বড় ভাইও একটা কাজ করিয়ে ছিলেন। এবং আমি দেখলাম কাজটার মান যথেষ্ট ভালো। ভাবুন তো যাদের সে ফ্রি কাজ করে দিয়েছিল তাদের কখনো লোগো ডিজাইনার হায়ার করার দরকার হলে তার কথা কি একবার ভাববে না? সুতরাং বুজতেই পারছেন, আপনার হাতে কাজ না থাকলেও আপনি কাজ করুন। নিজের জন্য হলেও করুন । আর সবথেকে ভালো হয় তার মত কারো কারো ফ্রি কাজ করে দিন। এতে আপনার প্রচারের কাজও হয়ে যাবে।

সবসময় উপাস্থাপনা সুন্দর এবং স্বচ্ছ করুন

এই বিষয়টা সব ক্ষেত্রেই থাকা উচিত। ধরুন আপনার অফিসের বস আপনাকে একটা আনঅফিসিয়াল কাজ দিয়েছে। আপনি হয়তো ভাবছেন এটা আর গুছিয়ে করার কি আছে। কাজটা করে দিলেই তো  হল। তাই আপনি একটা ওয়ার্ড ফাইলে এলোমেলোভাবে কাজ করে দিয়ে দিলেন, কোন ফরমেটিং করলেন না, কোন মার্জিন দিলেন না। এইক্ষেত্রে আপনি হয়তো অনেক পরিশ্রম করে ভালোভাবেই কাজটা করেছিলেন। কিন্তু আপনার উপস্থাপনা থেকে মনে হবে আপনি কাজটা দায় সারা করেছেন। তাই কখনো উপাস্থাপনায় পাঞ্জলতার কথা ভুলে যাবেন না। মনে রাখবেন যাই করেন না কেন কাজটি পচন্দ করার জন্য কেউ যখন প্রথম চোখ বুলায় তখন প্রথম বিবেচ্য বিষয়ই হচ্ছে এটার বাহ্যিক অবয়ব।

একাধিক আয়ের উৎস নির্ধারণ

যখন আপনি নতুন কেউ আপনাকে চেনে না। সেই সময় আপনার আর তাদের মাঝে থাকে একটা ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেস (odesk.com, freelancer.com, elance.com). এখন আপনি কিছুদিন পর odesk এ বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে আপনার চাহিদার পরিবর্তন হয়ে গেছে। আপনি এখন ভাবলেন যে ডিজাইন করে তা এনভাটো তে বিক্রি করবেন। একটা কাজ করবেন আর সারা মাস ঘুমাবেন। তাই ভেবে আপনি যদি odesk ছেড়ে দেন তাহলে তা হবে মস্ত বড় বোকামি। কারন একটার পর একটা ডিজাইন জমা দিয়ে ৬ মাসে যখন আপনার একটাও ডিজাইন টিকবে না ঐদিকে তখন odesk এও আপনার জনপ্রিয়তা শেষ। তাই অন্য কিছু ভেবে আগেরটাকে বাদ দেওয়া যাবে না। একটা হাতে রেখেই আরেকটাতে হাত দিবেন।

স্বাধীনতার অসৎ ব্যাবহার করবেন না

আমরা সবাই জানি যে ফ্রিলান্স স্বাধীন পেশা। কিন্তু সেই সাধিনতার এতোটা ব্যাবহার করবেন না যে যাতে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। অনেকে আছেন যারা আওয়ারলি কাজের টুল চালিয়ে রেখে দিব্বি ভাতও খেয়ে নেন। মনে রাখবেন চোরের দশ দিন আর গ্রেহস্থের একদিন। এটা নিশ্চিত থাকেন যে এইধরনের অভ্যাস শুধরে না নিলে অচিরেই আপনিও শেষ সাথে আপনার ক্যারিয়ারও শেষ।

নিয়মানুবর্তী হতেই হবে

প্রত্যেক স্বাধীন পেশায় এই বিষয়টা খেয়াল রাখতে হয়। স্বাধীন পেশায়, কোন চাপ নেই তাই নিজের যখন যা খুশি তাই করে গেলে শেষে এসে দেখবেন কিছুই করা হয়ে উঠেনি। বিশেষ করে যারা কোন টেকনিক্যাল বা ক্রিয়েটিভ কাজ করেন তারা দৈনিক হাতে ধরে বেশ কিছুটা সময় নতুন জিনিস শিখবেন। নইলে স্রোতের সাথে থাকা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

সবসময় হাসিখুশি থাকুন

এই একটা বিষয় ফ্রিলান্সারদের কখনো বলতে হয় না। প্রায় সব ফ্রিলান্সাররাই ইতিবাচক এবং আশাবাদী হয়ে থাকেন। এবং চারপাশ সম্পর্কে তাদের অভিযোগ খুব কমই থাকে। আর তারা নিজের বেছে নেওয়া পেশাকে নিজের জন্য উপযুক্ত এবং মনের মত মনে করেন। তাই এই জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতিও তারা সবসময় কৃতজ্ঞ থাকেন। আর তাই জীবন সম্পর্কে যাদের অনেক অভিযোগ তাদেরকে বলে রাখি এটা ফ্রিলান্সারদের সাধারন অভ্যাসের মধ্যে অনুপস্থিত এবং তাদের এটা প্রয়োজনও হয় না। আপনার ক্লায়েন্ট, আশেপাশের মানুষ কার কাছ থেকে কি পাননি হিসাব বাদ দিন। যেহেতু আপনি ফ্রিলান্সার আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এই মহামূল্যবান রত্ন পেয়েছেন তার হিসাব করুন।

নিয়মিত প্রকৃতির কাছে যান

ফ্রিলান্সাররা সাধারনত বেশিরভাগ সময় বাসায় বা অফিসে কম্পিউটার নিয়েই থাকেন যাতে তাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় রুটিন করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, কিংবা বাড়ির পাশের পার্কে গিয়ে পাখিদের ডাক শুনে আসুন। দেখবেন মনটা অনেক সতেজ থাকবে। তাতে কাজ করার সময় কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং কাজের মান ভালো হবে।

জীবন থেকে কিছু বিষয় সরিয়ে দিন

আপনি হয়তো আগে খেলা দেখতেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারতেন, কিংবা অনেক বেশি বই পড়তেন। এর কোনটাই খারাপ না। তবে আপনার দায়িত্ব এখন অনেক বেড়ে যাবে। তাই আপনি আগের মত সবদিকে সময় দিতে গেলে বোকামি করবেন। আমি বলছিনা যে একেবারে ছেড়ে দিবেন। তবে বন্ধুদের সাথে আড্ডা কমিয়ে দিন, রাত জেগে বা সারা দিন বসে বসে টেস্ট ক্রিকেট দেখার কোন দরকার নেই। খুব বেশি ইচ্ছে হলে দু,একদিন দেখতে পারেন। তবে অভ্যাস করে দেখবেন না। এই ধরনের আরও অনেক ভালো বিষয় আছে যেগুলো থেকে সরে না আসলে আপনি প্রচুর কাজ করতে পারবেন না। তবে মাঝে মাঝে রুটিন বাদ দিয়ে চলাও খুব প্রয়োজনীয়।

যেকোনো কাজ সময় মত শেষ করুন

আগে হয়তো আপনি একদিনের কাজ তিনদিনে করতেন। কিন্তু ফ্রিলান্সার হিসেবে এই ধরনের ভাববেনও না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতেই হবে। আজকের কাজ কালকের জন্য রেখে দিলে কালকের কাজ কখন করবেন? এর বাইরেও সময় বাঁচানোর চেষ্টা করুন। তবে কাজের কোয়ালিটি ঠিক রেখে।
»» read more

Friday, 19 December 2014

ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনার (গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে মেগা পোস্ট)

অনেকেই মনে করেন যে, আর্টে বা চারুকলায় বিশ্বে ক্যারিয়ার খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। অনেকেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, চারুকলাকে যারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ অভাব-অনটনের কারণে। আর এ কারণেই অনেকেই বলে থাকেন, শিল্পী বিশেষ করে চারুকলা শিল্পীদের ভাত নেই। এ অবস্থা শুধু আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য ছিল, তা নয়। উন্নত বিশ্বেও এমন বিরাজমান ছিল। এখন এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগ বা বিশ্ব যার চালক হলো অতীতের চারুশিল্পী আর বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার। এক্ষেত্রে খুব সহজেই এখন ক্যারিয়ার খুঁজে পাওয়া যাবে। সৃজনশীল ও মেধাবীদের জন্য চারুকলা তথা আর্ট হলো এক চমৎকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র যেখানে বিরাজ করছে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ কিংবা বলা যায় সৃজনশীলদের সেরা কর্ম তুলে ধরার আদর্শ ক্ষেত্র। বলা হয়ে থাকে, গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপক বিস্তৃত ক্ষেত্রের কারণে ক্যারিয়ার গড়ার এখন উপযুক্ত সুযোগ। যেকোনো চারুশিল্পী বা আর্টিস্ট তার ক্যারিয়ার হিসেবে এ সেক্টরকে বেছে নিতে পারেন নির্দ্বিধায়। কেননা বর্তমানে এটি বেশ চাহিদাপূর্ণ ও দৃঢ় একটি খাত।
গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ডিজিটাল মিডিয়াম বা মাধ্যম যার ফোকাস হলো ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এবং কমিউনিকেশনের ওপর। কিছু কিছু ডিজাইন খুবই সাধারণ কর্পোরেট লোগোর মতো, আবার কিছু কিছু ডিজাইন বেশ জটিল ধরনের এক সিরিজ পূর্ণপৃষ্ঠা প্রিন্ট বিজ্ঞাপন বা ওয়েব ডিজাইন ধরনের। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা প্রকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে যেমন, তেমন রয়েছে কাজের স্বাধীনতাও।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তরুণ প্রজন্ম যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনকে নিজেদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করছেন। আর তা মূলত তাদের মেধা বা প্রতিভা বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে ফেলছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে এ কথা সত্য, সৃজনশীলতাকে অন্য যেকোনো বিষয়ের জ্ঞানের বা দক্ষতা থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সাধারণত ডিজাইনারেরা মানসম্মত ও আকর্ষণীয় হৃদয়গ্রাহী কোনো ডিজাইন করার জন্য চূড়ান্ত সময় পর্যন্ত কাজ করে যান। তারা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার জন্য ইচ্ছেমাফিক কাজ করতে পারেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া। গ্রাফিক্স ডিজাইনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো কাজের অর্থাৎ পেশার স্থায়িত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায়। ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বিশেষ করে ওয়েবপেজে ডিজাইনিংয়ের চাহিদার কারণে। এক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদার কারণে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা কোনো কোম্পোনিতে স্বাভাবিক নিয়মে নিয়োজিত যেমন থাকতে পারেন তেমনি, থাকতে পারেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এবং বেছে নিতে পারেন নিজের শিডিউল অনুযায়ী কাজ।
গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আপনার জন্য প্রধান এবং প্রথম কাজ হবে সঠিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজাইনের ক্ষেত্র বেছে নেয়া। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে রয়েছে ভালোমানের প্রশিক্ষণসহ চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ। সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। সুতরাং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হবার আগে ভালো করে খোঁজ নিয়ে জেনে নিন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষকের যোগ্যতা, মেধা, মনন, শিক্ষার পরিবেশসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার কী
গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো সাম্প্রতিক সময়ের অতি দ্রুত সম্প্রসারণশীল এক শিল্পকর্ম। পেশাজীবীরা গ্রাফিক্স ডিজাইনে যেমন চান সৃজনশীলতার ছোঁয়া থাকুক, তেমনি চান এক্ষেত্রে থাকুক সাংগঠনিক সুযোগ-সুবিধা, যা গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনারদের সহায়তা দেবে। বহির্বিশ্ব ছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশেও এখন অনেকেরই ওয়েবসাইট রয়েছে বা অন্যভাবে বলা যায় ওয়েবে উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং তা ক্রমশ বাড়ছে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ারকে মোটেও হাল্কাভাবে নেয়া উচিত হবে না। গ্রাফিক্স ডিজাইনের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোকে গুরুত্বের সাথে নিতে চান, তাহলে সবচেয়ে জরুরি হলো আপনার দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন তৈরি করা এবং সবচেয়ে সফল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার মনোবাসনা থাকা। আমাদের সবারই মনে থাকা দরকার সুনাম এবং সেবার মান যেকোনো ধরনের ক্যারিয়ারের সফলতার চাবিকাঠি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের শিক্ষা
বর্তমান অর্থনীতিতে কাজ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও যেগুলো সৃজনশীলতার জন্য পুরস্কৃত হতে হয় এমন কাজ সচরাচর পাওয়া যায়, তা বিশ্বাস করা কঠিন। গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি স্থিতিশীল এবং দ্রুত সম্প্রসারণশীল শিল্প। বিশ্বের প্রতিটি একক সংস্থাকে কোনো না কোনো সময় গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাছে ধর্ণা দিতে অর্থাৎ শরণাপন্ন হতে হয় তাদের কর্পোরেট লোগো, বিজ্ঞাপনের লেআউট, ওয়েব ডিজাইন বা বিপুলসংখ্যক ফরমের ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন ও প্রেজেন্টেশনের জন্য। লক্ষণীয়, ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা কখনই সেকেলে হয়ে যান না বা কর্মহীন হয়ে হতাশায় ভোগেন না। ইদানীং ডিজিটাল মিডিয়া এনভায়রনমেন্টের ধরন-প্রকৃতির কারণে সম্ভাব্য গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য দরকার হয় শৈল্পিক প্রতিভার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর দক্ষতা। যেকোনো গ্রাফিক্স ডিজাইন স্কুল থেকে ভালোভাবে প্রশিক্ষিত হয়ে যথাযথভাবে নিজেকে প্রস্ত্তত করে বর্তমান ডিজাইন মার্কেটে সম্পৃক্ত করা উচিত। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ছাত্রদেরকে শিখতে হবে এইচটিএমএল, জাভাসহ অন্যান্য ওয়েব ডিজাইন সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন, যাতে বেসিক কোডিং ও ওয়েব ডিজাইনে সক্ষমতা অর্জন করা যায়। এতে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন ফ্রিল্যান্স মার্কেটে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বাজার চাহিদা নির্ভর করে মূলত দুটি প্রধান উপাদানের ওপর। গ্রাফিক্স ডিজাইনে প্রতিভাদের সাথে মিশে আছে অনেক ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রফেশনাল, যেমন- ভিডিও গেম, বিজ্ঞাপন, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট ডিজাইনসহ আরো অনেক। বলা যায়, গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের বেতন আইটি খাতের অন্য প্রফেশনালদের তুলনায় বেশ কম। তারপরও এ ক্ষেত্রে প্রফেশনালদের সবচেয়ে সুবিধা হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনে প্রফেশনালদের চাকরি আইসিটি খাতের অন্যান্য সেক্টরের মতো তেমন অস্থায়ী এবং অনিশ্চয়তাপূর্ণ নয়। কেননা ইন্টারনেট বর্তমানে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশে পরিণত হওয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। তা আগামী দিনেও বাড়তে থাকবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের মধ্যে প্রচুর প্রতিযোগিতা থাকলেও গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রফেশনালেরা কখনই বেকার হয়ে থাকবেন না।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ
গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সৃষ্টি করেন ভিজ্যুয়াল ইমেজ, যা সমস্যার সমাধান করে কিংবা কমিউনিকেট করে এক মেসেজ। ইদানীং গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ব্যবহার করেন কমপিউটার সফটওয়্যার। মূলত তাদের সৃষ্ট কর্মের ইলেক্ট্রনিক ভার্সন তৈরি করতেই এই কমপিউটার ও সফটওয়্যারের ব্যবহার হয়। অনলাইন মিডিয়ায় বা প্রিন্ট মিডিয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা নিয়োজিত হতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের কাজের উদ্দেশ্যে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের দক্ষতা হলো ইমেজ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের থাকতে হবে ইউনিক, কার্যকর ডিজাইন তৈরির সক্ষমতা যা প্রজেক্টের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে।
কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা অনেক সময় প্রয়োজনবোধে ক্লায়েন্টের সাথে মতবিনিময় করেন তাদের প্রজেক্ট নিয়ে। যদি ওয়েবসাইটের ডিজাইন তৈরির কাজ হয়ে থাকে, তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জেনে নিয়ে ওয়েবপেজের লেআউট তৈরি করার জন্য সিলেক্ট করেন কালার, ইমেজ, টেক্সচার ও শেপ। কমপিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ওয়েবসাইটের জন্য টেম্পলেট তৈরি করেন।
বর্তমানে ওয়েবসাইট ডিজাইন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ওয়েব পেজের লেআউট তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে আরো যেসব বিষয় সম্পৃক্ত থাকে তা নিম্নরূপ : ভিডিও গেম ডিজাইন, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, সাংবাদিকতা, পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের লেআউট তৈরিসহ অন্যান্য বিষয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বোচ্চ বেতন : গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্ষেত্র দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন টেকনোলজি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টি করছে নতুন নতুন চাহিদা। গ্রাফিক্স ডিজাইন তেমন এক চাহিদাসম্পন্ন টেকনোলজি ক্ষেত্র, যা অতীতে ছিল শুধু আর্টিস্টকেন্দ্রিক। ইন্ডাস্ট্রিতে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কাজ বা চাকরি রয়েছে যার জন্য দরকার মাল্টিমিডিয়া ও বিভিন্ন ধরনের কমপিউটার সফটওয়্যার কাজে দক্ষতা, যারা কাজ করবেন মার্কেটিং ও প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়াল, মিউজিক, ভিডিও, প্রিন্টেডে ডকুমেন্ট, ওয়েবপেজসহ আরও অনেক ক্ষেত্র নিয়ে। গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রে সম্প্রতি আরও একটি মাধ্যম যুক্ত হয়েছে। তা অনেক দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন এ মাধ্যমে যেকেউ কাজ করতে পারেন যেমন- ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া অর্থাৎ ওয়েব ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার কয়েকটি কারণ
গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রি ক্রমসম্প্রসারণশীল ইন্ডাস্ট্রি :
সব ইন্ডাস্ট্রির যে ক্রমোন্নতি হয় তা নয়, যেহেতু আমাদের অর্থনীতি এবং জীবনধারা পরিবর্তনশীল। তাই কখনো কখনো কোনো কোনো পেশা সেকেলে বা বাতিল হয়ে গেলেও গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকের পরিসংখ্যানমতে জানা যায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত গ্রাফিক্স ডিজাইনের অবস্থান কমপক্ষে ১৩ শতাংশ বাড়বে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পান : c
আর্ট কলেজের ডিগ্রিধারীদের রয়েছে কমপিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের অভিজ্ঞতা তাদের স্টার্টিং বেতন আমাদের দেশে ক্ষেত্রবিশেষে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা, আর আমেরিকায় ১৬,০০০-২০,০০০ ডলার। অবশ্য আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব গ্রাফিক্স আর্টের ২০১৪ সালের তথ্যমতে শুরুতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের গড় বেতন ৩৫,০০০ ডলার।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সম্ভাব্য পদোন্নতি :
বেশিরভাগ গ্রাফিক্স ডিজাইনার তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেন এন্ট্রি লেভেলের ডিজাইনার হিসেবে বা গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে। অবশ্য তাদের এ অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয় না। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ২/৩ বছরের মধ্যে তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে পদোন্নতি লাভ করতে পারেন খুব সহজেই। কেননা এক্ষেত্রে এখনো জনবল খুব কম।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের নমনীয়তা :
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা স্বতন্ত্র বিভিন্ন ধরনের কাজের উপযোগী। যদি আপনি অন্যদের সাথে কাজ করতে উপযোগী হয়ে থাকেন, তাহলে ডিজাইন ফার্মে কাজ করতে পারবেন ডিজাইনার টিমের সাথে। এক্ষেত্রে আপনার সারাদিন কেটে যাবে ব্রেইনস্ট্রিমিংয়ের সেশনের কাজে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইন এক চমৎকার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে পারেন যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে অভিজ্ঞ ও সৃজনশীল হয়ে থাকেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন সৃজনশীল :
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনাকে সবসময় নতুন কিছু করতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়, নতুন নতুন ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট করতে হয়। ভালো ও সৃজনশীল গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা তাদের ক্লায়েন্টদের সাথে ভিজ্যুয়ালি কমিউনিকেট করার নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ধৈর্যের কাজ, মোটেও তা বিরক্তিকর নয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা সৃষ্টি করতে পারেন ভিন্নতা :
ছবি হাজার কথা বলে। কিছু গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা তাদের কর্মে ছবি ব্যবহার করেন ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করতে, যা জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতে পারে পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বিখ্যাত হতে পারেন :
পুরনো দিনের আর্টিস্টের কাজ আজকের যুগের গ্রাফিক্স ডিজাইনার দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে অনেকখানি। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। এর ফলে পরে হয়তো হয়েও যেতে পারেন বিখ্যাত কোনো শিল্পী। পাবলো পিকাসো, ভ্যান গগ, জয়নুল আবেদিন প্রভৃতি শিল্পী তাদের সৃজনশীল শিল্পকর্ম দিয়ে যেমন জগৎখ্যাত হয়েছেন তেমনি আপনিও আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে আপনার সৃজনশীল অভিব্যক্তি তুলে ধরে জগৎখ্যাত হাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বার্ষিক বেতনের চার্ট নিচে দেখানো হয়েছে, যা ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিক্স ওইএম-২০১৪-এ প্রকাশ করা হয়। এ চার্টে শীর্ষ পাঁচ ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ গড় বেতন কমপিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন গড় বেতন প্রিন্টিং গ্রাফিক্স ডিজাইনারের তুলনামূলক চিত্র দেখানো হয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা কমপিউটারে আর্ট লেআউট, ইন্টারনেট, প্রিন্ট অ্যাডভার্টাইজিং ম্যাটেরিয়াল, খবরের কাগজ, বই ছাপা, ভিডিও তৈরি ইত্যাদিসহ অনেক কাজ করেন। এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা আরো অগ্রসর পর্যায়ে, কাজ করতে পারেন সফটওয়্যার ব্যবহার করে। যেমন- স্পেশাল ইফেক্ট, অ্যানিমেশন ইন্টারেক্টিভ টেকনোলজি ও গেম ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
»» read more

Tuesday, 9 April 2013

Free internet use

free internet use korta visit korun   http://paponblog.tk
»» read more

Monday, 4 February 2013

বিলুপ্তির পথে জলাভূমির মৃত্যুদানব

ওরা দেখতে কুৎসিত, লম্বা মুখে বিশাল দাঁতের সারি সবসময় খাই খাই করে। জলের ওপর শুধু নাকটা ভেসে থাকে, নিঃশব্দে ভেসে বেড়ায়, কুঁতকুঁতে চোখ দু’টো সতর্ক, শিকারের সন্ধানে উন্মুখ। জলার ধারে পানি খেতে আসা অ্যান্টিলোপ, বরাহ কিংবা বাইসন ওদের সহজ টার্গেট, বাগে পেলে মানুষের মাংসেও অরুচি নেই। ভয়ংকর জোর গায়ে, কাঁটাযুক্ত ধারালো লেজওলা লম্বা, ভাসমান কালো শরীরটাকে দূর থেকে দেখে গাছের গুঁড়ি বলে ভ্রম হতে পারে সহজেই। খবরদার ভুলেও যেন ওটার কাছে যাওয়া না হয়, কারণ জলাশয়ের পানিতে ভেসে বেড়ানো সরীসৃপ গোত্রের এই প্রাণীটা সাক্ষাৎ এক মৃত্যুদানব "কুমির!"



জলাশয়ের স্থায়ী বাসিন্দা ভয়ংকর এই প্রাণীটির পৃথিবীতে বাস দুই’শ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে। মোট ২১ প্রজাতির কুমির আছে সারা দুনিয়ায়, আমেরিকান অ্যালিগেটরসহ। কিন্তু এই প্রাণীটি ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বুক থেকে। নাইজেরিয়ার একটি জলাভূমিতে শাক সবজি উৎপাদনের জন্য পানি শুকিয়ে ফেললে তিন বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের সব কুমির অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলো। ১৯৬৭ সালে প্যারিসে এক ধনী আমেরিকান ৭,৫০০ ডলার দিয়ে নোনা পানির একটি কুমিরের চামড়া কিনেছিলেন তার পোর্টেবল বারকে ঢেকে রাখার জন্য। এক জরিপের তথ্য হচ্ছে, উত্তর অস্ট্রেলিয়ার লিভারপুল নদীতে একরাতে কুমির শিকারীরা চল্লিশটি কুমির হত্যা করেছিলো। কুমির হত্যা বন্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতই আইন প্রয়োগ করুক না কেন যে হারে এই প্রাণীটির নিধনযজ্ঞ চলছে তাতে এই শতাব্দী শেষ হবার আগেই শুধুমাত্র আমেরিকান অ্যালিগেটর ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির কুমির কোথাও থাকবে না।

বিজ্ঞানীরাও ইদানিং কুমিরের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এই প্রাণীটির ওপর গবেষণা চালানো যে বড়ই কষ্টকর। কারণ এরা থাকে নির্জন, জনবিরল প্রত্যন্ত এলাকায়, বেশিরভাগ সময় কাদার মধ্যে ঘাপটি মেরে  থাকে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময় এরা কিছুই করে না, চুপচাপ ঝিমোয়। কিন্তু যখন জেগে ওঠে তখন এদের কাজগুলো দেখার মতোনই হয় বটে।

ডাইনোসররা বহু আগে পটল তুললেও তাদের স্বজাতি কুমিররা কিন্তু এখনও বহাল তবিয়তেই পৃথিবীতে বাস করছে। অন্যান্য সরীসৃপদের তুলনায় এই প্রাণীর মস্তিষ্ক অনেক জটিল। বেশিরভাগ কুমির পাখির মতোই বাসা বাঁধে। মাত্র কিছু প্রজাতি একা থাকতে পছন্দ করে। তাদের হিসহিস, নাক দিয়ে ঘোঁতঘোঁত ইত্যাদি শব্দ কিছু না কিছু অর্থ বহন করে।

পূর্ণ বয়স্ক কুমির ৩ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন ১ টনেরও কিছু বেশি। কিছু প্রজাতির কুমির এক’শ বছরেরও বেশি বাঁচে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

কুমিরদের মধ্যে নোনা পানির কুমিরগুলো হয় সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। ৩৩ ফুট লম্বা কুমিরেরও দেখা মিলেছে কুইনসল্যান্ডে। ধারণা করা হয়, কুমিররা ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে। ফিজির সাগর তলেও বেশ কিছু কুমির বাস করে। কারণ তারা ঢেউয়ের দোলা একটুও পছন্দ করে না। উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় নোনাপানির কুমিরের সংখ্যা এক সময় মিলিয়নেরও বেশি ছিলো। কিন্তু সংখ্যাটা এখন ৫ হাজারে এসে ঠেকেছে। নোনা পানির এই কুমিরদের হিংস্রতা সম্পর্কে অনেক গল্প আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাকি বার্মিজ এক জলাভূমিতে হাজারেরও বেশি জাপানিকে সেখানকার কুমিরগুলো মহাউৎসাহে ভক্ষণ করেছিলো। ১৯৭৬ সালে, ইন্দোনেশিয়ার একটি ডুবন্ত ফেরি বোটের ৪০ জন আরোহীকে গলাধঃকরণ করেছিলো কুমির।

মানিনগ্রাডের বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এসব ঘটনাকে ‘গল্প’ বলে উড়িয়ে  দিতে চেয়েছেন। তাদের ধারণা কুমির নেহায়েতই ভীরু প্রকৃতির প্রাণী, মানুষজন সবসময় এড়িয়ে চলে। কিন্তু তারপরও বহুবার কুমিরের শিকার হয়েছে মানুষ। কিছুদিন আগে কুইনসল্যান্ডের এক তরুণ খনি শ্রমিক গিয়েছিল বরাহ শিকারে। তাকে জলাভূমিতে নেমে সাঁতরাতে দেখে তার এক বন্ধু। তারপর তার আর কোন খোঁজ নেই। পরে স্থানীয় এক পুলিশ অফিসার হতভাগ্য ছেলেটির আধ খাওয়া শরীর আবিষ্কার করেছিলো ওই জলাভূমি থেকে ধরা পড়া ১৮ ফুট লম্বা এক কুমিরের পেটে।

তবে মানুষখেকো হিসেবে মোট তিন জাতের কুমিরকে দায়ী করা যায়। এরা হচ্ছে নোনা পানির কুমির, আফ্রিকার নীল নদের কুমির এবং বৃহৎ আমেরিকান অ্যালিগেটর। তবে ভারতের মকর নামের এক শ্রেণীর কুমিরও মানুষের ওপর হামলা চালায় তাদের শান্তি বিঘ্নিত হলে।

কুমিরদের সম্পর্কে একটি মজার তথ্য হচ্ছে, এরা খাবার চিবোয় না, স্রেফ গিলে ফেলে। এমনকি পাথরও নাকি গপ করেই গিলে খায় এরা। তবে এদের জারক রস এতোই শক্তিশালী যে তারা পাথর পর্যন্ত হজম করে ফেলতে পারে।

শুরুতেই বলা হয়েছে, জলাশয়ের এই দানবটি এখন নিশ্চিহ্ন হবার পথে। এর একমাত্র কারন, এদের চামড়া। কুমিরের চামড়ার তৈরী মানিব্যাগের দাম ১২০০ টাকা, হাতব্যাগ ৮০০০ টাকা। মরা হাতির মতো মরা কুমিরও কুমির শিকারীদের কাছে লাখ টাকা দাম। কেনিয়ার লেক টুরকানাডে ৬৬ সালে ১২০০০ হাজার কুমির ছিল। কিন্তু চোরাশিকারীদের কারণে এই সংখ্যাটা এখন এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় শূণ্যের কোঠাতেই।

আফ্রিকার প্রকৃতি কুমিরদের বসবাসের জন্য খুবই কঠিন জায়গা। কিন্তু মানুষ তার জন্য আরো কঠোর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকান সরকার দলবদ্ধভাবে কুমির শিকার বন্ধ করলেও চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম একটুও হ্রাস পায়নি।


ভারতে ঘড়িয়াল কুমিরদের রক্ষা করার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। সারা ভারতে ঘড়িয়াল কুমিরদের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ষাট, আর নেপালে সম্ভবত চল্লিশ। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই এদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে রাজা বাদশাদের রাজকীয়  শিকারের কবলে পড়ে। উড়িষ্যায় এক মহারাজা একদিনে এক’শ ঘড়িয়াল হত্যা করেছিলেন শুধু টার্গেট প্রাকটিশ করতে, এমন কথাও শোনা যায়। তবে পঞ্চাশ এর দশকের শুরু থেকে ঘড়িয়ালদের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। এর কারণ হচ্ছে বাধ তৈরি, চোরা শিকার এবং যথেচ্ছ মৎস শিকার।

জেলেরাও কিন্তু কুমির শিকারের জন্য যথেষ্ট দায়ী। কারণ কুমিরকে তারা প্রকৃতির শত্রু মনে করে, ভাবে এগুলো অতিশয় পেটুক, সকল মাছ এরাই সাবাড় করছে। প্রকৃতপক্ষে কুমির খায় খুব কমই, বেশিরভাগ খাবার সঞ্চয় করে রাখে। আর যে সব মাছ তারা শিকার করে সেগুলো জেলেরা সাধারণত ধরে না।

কুমির চাষ লাভজনক ব্যবসা বলে অনেকেই কুমিরের ফার্ম করেছেন। নিউগিনি থেকে জাপান কুমিরের ফার্ম একটি সাধারণ জিনিস। ভারতের উত্তর প্রদেশের দু’টো অঞ্চলে ঘড়িয়াল উৎপাদনের কেন্দ্র রয়েছে। নন্দনকানন বায়োলজিক্যাল পার্কে ২০ ফুট লম্বা ঘড়িয়ালও রয়েছে। তবে আমাদের মীরপুরের চিড়িয়াখানায় শিশু চেহারার যে দু’টি কুমির রয়েছে সেগুলো অন্যান্যদের তুলনায় কিছুই না।

সেন্ট লুসিয়ায় টনি নামে এক ব্যক্তির কুমির খামারে রয়েছে হরেক রকমের কুমির। এদের মধ্যে ৮০ বছর বয়স্ক, ১৪ ফুট লম্বা উলফগ্যাং কুমিরটি খুবই হিংস্র স্বভাবের। সে একবার তার এক ১০ ফুট লম্বা স্বজাতিকে কামড়ে প্রায় মেরে ফেলারই জোগাড় করেছিল। উলফগ্যাং ঐ খামারের কর্তা। ওখানকার সব কুমির তাকে রীতিমত সমঝে চলে। মেরী নামের আরেকটি কুমির, এটি মেয়ে, নভেম্বর মাসে এই পুকুরের পাড়ে গর্ত খুঁড়ে চল্লিশটির মত ডিম পেড়েছিলো। কিন্তু বাচ্চা ফুটে বেরুবার পর উলফগ্যাং সুযোগ বুঝে সেগুলোকে খেয়ে ফেলে। তবে ইদানিং উলফগ্যাং সেই সুযোগ আর পায় না। কারণ মেরী রীতিমত তার বাচ্চাদের পাহারা দিয়ে রাখে। 


এরকম আরেকটি ব্যক্তিগত খামারের মালিক ওয়েষ্ট পামবীচের এড এবং ফ্রান্সিন ফ্রয়লিক দম্পতি। তাদের খামারে কুমিরের সংখ্যা ২,৫০০। প্রতি সপ্তাহে এই কুমিরগুলো ৩,০০০ পাউন্ড মাছ এবং মাংস খায়। ফ্রয়লিকরা তাদের খামারে আরো ১০০০ কুমির উৎপাদনের কথা চিন্তা করছেন। কারণ  কুমিরের চাষে তাদের আর্থিক লাভের অঙ্কটা নেহায়েত কম না।

কুমিরের চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা বলে এদিকে ইদানিং অনেকেই এগিয়ে আসছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এটি একটি শুভ সংবাদ। কিন্তু দুঃসংবাদ হচ্ছে চোরা কুমির শিকারীদের দৌরাত্ম ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ জীব বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা এভাবে কুমির নিধনযজ্ঞ চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আর কোনো কুমিরই থাকবে না। কুমিরের মাংস অনেকের প্রিয়। এজন্যেও দেদারসে এই প্রাণীটিকে হত্যা করা হচ্ছে। এই লোভ দমন করা সম্ভব না হলে কোটি বছরের এই প্রাচীন প্রজাতিটি একদিন হয়তো তার বিলুপ্ত স্বজাতি ডাইনোসরদের মতোই বিলীন হয়ে যাবে।
»» read more

Friday, 25 January 2013

আপনার Opera mini তে দেশের সব ভাষা দেখুন

আপনার আপেরা মিনি ওপেন করে এড্রেস বার থেকে www. কেটে দিয়ে টাইপ করুন about:config আথবা opera:config লিখে GO তে ক্লিক করুন ।
undefined
সবার নিচে দেখবে Use bitmap front complex লেখাতে NO দেয়া আছে এটা YES করে দিয়ে Save এ ক্লিক করুন । তাহলেই সব ভাষা দেখতে পাবে । সবাইকে ধন্যবাদ ।
»» read more

আপনার মোবাইলের অপারেটর লগো পরিবর্তন করুন নিজেই

আপনার মোবাইলের operator logo পরিবর্তন করুন নিজেই* Operator Logo কি? Operator Logo হচ্ছে এমন একটি গ্রাফিক্স যেটি আপনার ফোনের Operator Name (Robi, Grameen Phone, etc) এরজায়গায় দেখাবে, কিভাবে এটি তৈরি করবেন? একটি ছোট সাইজের (সাইজ ছোট বড় করতে Images converter/mobile photoshop নিতে পারেন) পিকচার নিন, তার পর সেটিকে সরাসরি মেমোরি কার্ডে কপি করুন (কোন ফোল্ডারে নয়) । তারপর সেটিকে File explorer/BlueFTP/Xplore ( about BlueFTP)দিয়ে logo.oplc নামে রিনেম করুন । এখন Music Player open করুন এবং Music Menu /Options / Downloads/ Go To Address এ যান, তারপর “rtsp:// ” কেটে দিয়ে কোনো Space ছাড়া লিখুন file:///e: /logo.oplc এবং Ok করুন এবং তারপর Back করুন । (লাল বাটমে চাপ না দিয়ে লালটার উপরে Back চাপুন) এখন “Operator Logo Recieved. Show? Save? ”এমন একটা মেসেজ দেখতে পাবেন । এটিকেSave করুন । কাজ শেষ । এবার দেখুন অপারেটরের নামের যায়গায় আপনার পিকচারটি, এটিকে বন্ধ করতে Phone Setting / Display 

»» read more
free counters
^ Back ToTop