paponblog

Monday, 11 December 2017

Digital painting artwork in Photoshop

                                                         Watching Tutorial Video Here:



                                                                      Thank you
»» read more

Wednesday, 14 September 2016

Wednesday, 7 September 2016

নতুন ল্যাপটপ

গ্লোবাল ব্র্যান্ড বাংলাদেশের বাজারে আসুসের তিনটি নতুন ল্যাপটপ কম্পিউটার নিয়ে এসেছে। এগুলো হলো রিপাবলিক অব গেমার (আরওজি) সিরিজের জি ৭০১ ভিও, ভিভোবুক ম্যাক্সএক্স ৪৪১/৫৪১ এবং জেনবুক ফ্লিপইউএক্স ৩৬০। জি ৭০১ ভিও ল্যাপটপে ডেস্কটপ মানের গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আছে ইন্টেল কোর আই-৭ প্রসেসর, ৮ গিগাবাইটের জিফোর্স জিটিএক্স ৯৮০ ভিডিও কার্ড। আরও থাকছে ৬৪ গিগাবাইট র্যাম, ১ টেরাবাইট এসএসডি প্রভৃতি। জেনবুক ফ্লিপ আল্ট্রাবুকটি ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো যায়। ভিভোবুক ম্যাক্স তৈরি করা হয়েছে ব্যাবহারকারীর মাল্টিমিডিয়া এবং দৈনন্দিন কাজের বিষয়টি মাথায় রেখে। এতে আছে ইন্টেলের ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রসেসর আর এনভিডিয়া জিফোর্স ৯২০ এমএক্স গ্রাফিকস কার্ড
»» read more

ইউরোপে ড্রোন নিবন্ধনের আহ্বান

ওই জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, উপদ্রব হিসেবে পরিণত হওয়া ড্রোনগুলোর মালিক বা চালক শনাক্ত করা গেলে, আইনের বাস্তবায়ন উন্নত করা যাবে।
২২৮ গ্রাম-এর বেশি ভরের ড্রোন নিবন্ধন ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ককপিট অ্যাসোসিয়েশন আর ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-এর মোট ১০টি সংস্থা মিলে এই আহ্বান জানিয়েছে। এই জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, "পুনরায় তৈরি করা যায় এমন ড্রোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, আর এই সব মানুষ বহনকারী আকাশযানের ঘটনা আর দুর্ঘটনা সম্পৃক্ত ঝুঁকি অবশ্যই প্রশমিত করতে হবে।"
ড্রোনের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয় বলে জানান তারা।
ড্রোন নিবন্ধনের এই আহ্বানে যোগ দেয়নি যুক্তরাজ্যের সিভিল অ্যাসোসিয়েশন অথরিটি (সিএএ)। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, "আমাদের সামগ্রিক লক্ষ্য হচ্ছে প্রথম থেকে আকাশে হয়ে আসা যে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ঠেকানো। নিবন্ধনের সুবিধা রয়েছে, কিন্তু নিবন্ধনের সুবিধাগুলো কি?- তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জটিল।" 
নিবন্ধনের পাশাপাশি ড্রোনগুলোতে উচ্চতা আর দূরত্ব নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যার দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় আর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে ডিজেআইসহ অন্যান্য ড্রোন নির্মাতারা তাদের পণ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।  
»» read more

Monday, 9 May 2016

ইউটিউব থেকে আয় করুন সহজ কিছু ভিডিও তৈরি করে

আপনি যদি একজন ইন্টারনেট আসক্ত মানুষ হয়ে থাকেন তবে আপনার দিনের অনেকটা সময়ই যে ইউটিউবে কাটে সেটা আন্দাজ করে নেয়া খুব একটা কঠিন কিছু নয়। এখন আপনি ভাবুন, এই ইউটিউবে শুধু অন্যের ভিডিও ব্রাউজ না করে যদি আপনি নিজেই একটি চ্যানেল তৈরি করে আপনার করা নতুন কোন ভিডিও আপলোড করতেন তাহলে একটা সময় গিয়ে এই ইউটিউব থেকেই আপনি চমৎকার একটা অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে পারতেন যে অ্যামাউন্টটা হয়তো অনেকে চাকুরী করেও মাসের শেষে হাতে পায় না!
অনেকের মাথায়ই হয়তো এরকম চিন্তা আগে এসেছে কিন্তু তখন তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি যে কি রকমের বা কোন ক্যাটাগরির ভিডিও নির্মান করে ইউটিউবে আপলোড করলে সেখান থেকে আয় করা সম্ভব হবে, এবং এরপরেই হয়তো তারা পিছিয়ে গিয়েছেন। তাই আমি আজ আপনাদের জন্য – যারা আগে ভেবেছেন কিন্তু বুঝে উঠতে পারেননি এবং যারা কখনো ভাবেননি, মোটকথা সবার জন্যেই কিছু সহজ ক্যাটাগরির ভিডিও নির্মান করার পদ্ধতি শেয়ার করবো যার ফলে মোটামুটি কম শ্রমেই আপনিও হয়তোবা হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল ইউটিউবার। চলুন তাহলে, কথা না বাড়িয়ে শুরু করে দেয়া যাক।

আনবক্সিং ভিডিও

হয়তোবা ইউটিউবে যে ভিডিওগুলো আছে সেগুলোর মধ্যে সবচাইতে কম শ্রম খরচ করে এই ক্যাটাগরির ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। মজার বিষয় হচ্ছে, এই ক্যাটাগরির ভিডিওগুলো তৈরিতে কম শ্রম খরচ হলেও এই ধরণের ভিডিওগুলো কিন্তু ইউটিউবে দারুণ জনপ্রিয়।
আনবক্সিং ভিডিও বলতে কি বোঝায় তা নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে? তবুও যারা জানেন না তাদের জন্য সংক্ষেপে লিখছি। ধরুন, একটি প্রোডাক্ট আপনার কাছে আছে বক্স সহ। সেটা হতে পারে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা এরকম যে কোন কিছু। এখন, আপনাকে যা করতে হবে সেটা হচ্ছে যে কোন একটি প্রোডাক্ট (অবশ্যই যা আপনার কাছে আছে) বক্স থেকে বের করতে হবে তথা আনবক্স করতে হবে। প্রোডাক্টটির সাথে অন্যান্য কি কি এক্সেসরিজ আছে সেগুলোও আপনাকে প্রদর্শন করতে হবে। এমনভাবে আপনাকে পুরো বিষয়টা উপস্থাপন করতে হবে যেন যদি কেউ সেই প্রোডাক্টটি কিনতে চায় এবং বক্সের ভিতরে কি কি রয়েছে তা জানতে চায় তাহলে যেন সহজেই আপনার তৈরি করা ভিডিও থেকে সে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো বুঝে নিতে পারে।
এই ক্যাটাগরির ভিডিও নির্মানের জন্য শ্রম কম খরচ হয় এজন্যেই বলছি কেননা আপনাকে এর জন্য শুধু যে প্রোডাক্টটির আনবক্সিং করবেন তা লাগবে আর একটি ক্যামেরা লাগবে যার মাধ্যমে আপনি ভিডিও ধারণ করবেন। ব্যাস!

প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও

আনবক্সিং ভিডিওর সাথেই মূলত প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও সম্পর্কিত। কেননা, আপনি যে প্রোডাক্টটি আনবক্স করে দেখালেন সেটাই আপনি বিস্তারিত রিভিউ করার সময় সমগ্র বিষয়টি ভিডিওতে ধারণ করলেই সেটা প্রোডাক্ট রিভিউ হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আপনার বেশ কিছুটা সময় সেই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করে এর খুঁটিনাটি তথ্য জানতে হবে কেননা আপনার রিভিউ এর উপর ভরসা রেখেই কোন একজন সেই প্রোডাক্টটি কিনতে পারে।

গেমপ্লে ভিডিও

এটা আরও মজার একটি ক্যাটাগরি! ধরুন, আপনি যদি একজন গেম পাগল মানুষ হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয়ই বাজারে নতুন গেম এলেই সেটা আপনার খেলা হয়ে যায়? কিন্তু সাধারণ যারা আছেন বা যারা সহজ কথায় ততটা গেম পাগল নন তারা কিন্তু বেশ ভেবে চিন্তেই গেম খেলে থাকেন। তো, ধরুন আপনি নতুন নতুন গেম খেলার সময় শুধু স্ক্রিন রেকর্ড বা গেমপ্লে রেকর্ড করলেই সেটা গেমপ্লে ভিডিও হয়ে যাবে যাকে অনেকেই ভিডিও গেম ওয়ালথ্রু-ও বলে থাকেন। ভাবছেন, এটা করলে কি লাভ? ঐ যে, একটু আগে বললাম সাধারণ গেমার দের কথা! তাই ৫০গিগাবাইটের একটি গেম কেনা বা ডাউনলোডের আগে অনেকেই এই গেমপ্লের ভিডিওগুলো দেখে থাকেন এবং গেমপ্লে পছন্দ হলেই মূলত কিনে থাকেন বা ডাউনলোড করে থাকেন সেই গেমগুলো। আর এভাবেই আপনার করা ভিডিও গেম ওয়াকথ্রুগুলো অন্যের কাজে আসবে আর সাথে আপনিও কিছু টাকা আয় করতে পারবেন।

টিউটোরিয়াল

আমরা যে টিউটোরিয়ালগুলো প্রিয়তে লিখে থাকি বা অন্যান্য সাইটেও আপনারা পড়ে থাকেন সেগুলোও কিন্তু ভিডিও আকারে ইউটিউবে আপলোড হতে পারে। ধরুন, আমি একদিন লিখেছিলাম উইন্ডোজের কমান্ড লাইনের কিছু ব্যবহার। এই একই বিষয়টি কিন্তু আমি কম্পিউটারে করার সময় স্ক্রিন রেকর্ডের মাধ্যমে একটি ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড দিতে পারতাম। বিশ্বাস না হলে ইউটিউবে গিয়ে দেখুন, এরকম হাজার হাজার হাও টু/টিউটোরিয়াল ভিডিও পাবেন। এটা যে কোন ধরণের হতে পারে। উইন্ডোজ থেকে শুরু করে সাইকেলের লিক হয়ে যাওয়া টিউব ঠিক করা পর্যন্ত, যে কোন কিছু।

ফ্যান ভিডিও এবং মুভি রিভিউ

ধরলাম আপনার কাছে কোন প্রোডাক্ট নেই, আর আপনি কোন গেমও খেলেন না! তাহলে? মুভিতো দেখেন? তাহলে একটি মুভি দেখে সেই মুভিটির সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়াই ভিডিওতে ধারণ করে ছেড়ে দিন! বিশ্বাস করুন, ইউটিউবে এই ক্যাটাগরির ভিডিও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণটাও সহজ! ধরুন, ডেডপুল যখন নতুন নতুন মুক্তি পেল তখনই আপনি প্রেক্ষাগৃহে বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রথম দিনই মুভিটি দেখে নিলেন। এরপর বাসায় এসে আপনার মুভিটি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া (খারাপ এবং ভালো, যাই হোক) ভিডিওতে ধারণ করে ছেড়ে দিলেন। ব্যাস! আপনার কাজ হয়ে গেল! মানুষ একটি মুভি দেখার আগে, বিশেষ করে যে মুভিগুলো নিয়ে অনেক গুজব বা উন্মাদনা সৃষ্টি হয়ে থাকে সেগুলোর রিভিউ মানুষ দেখে নিতে পছন্দ করে, আর এভাবেই এই ক্যাটাগরির ভিডিওগুলো কাজে আসে।
»» read more

ওয়াইফাই স্পিড বাড়াবেন কিভাবে জেনে নিন

যারা ওয়াই-ফাইয়ে কাজ করেন তারা অনেক সময় গতি নিয়ে নানা সমস্যায় ভোগেন। আজ ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়াবেন কিভাবে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিষটি নিয়ে টেকডক্টর এ আগে পোস্ট করা হলেও আজকের পোস্ট টি সম্পূর্ন আলাদা ও ব্যতিক্রম ধর্মী ।
আমরা অনেকেই ইন্টারনেটের ধীর গতি নিয়ে বিরক্ত বোধ করি। ওয়াই-ফাই সংযোগে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চাইলেও অনেক সময় দেখা যায় সংযোগ রয়েছে কিন্তু গতি একেবারেই নেই। অর্থাৎ ইন্টারনেট স্পিড নেই। তবে এই সমস্যা হতে খুব সহজেই মুক্তি মিলতে পারে! তাহলে আসুন জেনে নিই ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ানোর কয়েকটি সহজ পথ।
রাউটারের লোকেশন পরিবর্তন করুণ
ওয়াই-ফাই সংযোগের গতি বাড়াতে হলে প্রথমেই আপনাকে রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন বা অবস্থানের মাঝে সমন্বয় রক্ষা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাউটার বাড়ির ভিতরে আসা ইন্টারনেট তারের খুব কাছাকাছি রাখা হয়ে থাকে। এটা মোটেও উচিত নয়। আবার অনেক সময় রাউটারের অ্যান্টেনার অবস্থান ঠিক করে রাখা হয় না। যে কারণে অ্যান্টেনার থেকে সব দিকে সংকেত পাঠানো এবং রিসিভ করা সম্ভব হয় না। সে কারণে রাউটারকে এমন স্থানে রাখা উচিত, যাতে রাউটারটি সবদিকে সংকেত পাঠাতে পারে অথবা সংকেত রিসিভ করতে পারে।
ওয়্যারলেস রাউটারে উন্নত অ্যান্টেনা যোগ করা
অনেক সময় রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন করেও ইন্টারনেটের গতি উন্নত বা বাড়ানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অ্যান্টেনা পরিবর্তন করতে পারেন। রাউটারের চারপাশে যদি অনেক দেওয়াল বা অনেক বাধা থাকে তবে সেক্ষেত্রে একটি এক্সটারনাল অ্যান্টেনা রাউটারের সামনে বা সঠিকভাবে ব্যবহার করে রাউটারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। কারণ রাউটারের কার্যক্ষমতা বাড়লে ইন্টারনেটের স্পিডও বাড়বে।
ওয়্যারলেস রিপিটার যোগ করুণ
আপনি ইচ্ছে করলে রাউটারে নেটওয়ার্কের পরিসীমা বাড়ানোর জন্য একটি ওয়্যারলেস রিপিটারের সাহায্য নিতে পারেন। এই রিপিটার রাউটার এবং সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করবে। কম দামে বাজারে এমন অনেক ভালো ভালো রিপিটার পেয়ে যাবেন।
ব্যাকগ্রাউন্ডের ডেটা ডাউনলোড বন্ধ করা
অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা একাধিক কাজের জন্য ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের গতি স্লো হতে পারে। ব্যবহারকারী কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি একাধিক ট্যাব একইসঙ্গে চলতে থাকে তবে ইন্টারনেটের গতি এমনিতেই কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে হলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন বা ট্যাব বন্ধ করতে হবে। তাহলে দেখবেন ইন্টারনেটের স্পিড আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তাছাড়াও অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি কমে গেলে রাউটারটি রিস্টার্ট দিয়ে নিলেও কাজ হয়। রাউটারটি রিস্টার্ট দিলে আবার গতি স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।
»» read more

ফ্রিলান্সার দের যে ১০টি অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত

একজন অনলাইন ফ্রিলান্সার হিসেবে আপনি যাই কিছু করেন না কেন, এটাকে বর্তমানে একই সাথে সবথেকে স্বাধীন এবং সবথেকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গণ্য করা হয়। ফ্রিলান্সার দের মাধ্যমে যে ধরনের কাজ করানো হয় তাতে সাধারনত ফ্রিলান্সার এবং ক্লায়েন্ট ২ জনেই লাভবান হন। যাক, আমার আজকের আলোচনার বিষয় এটা নয়। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এমন সব অভ্যাস যেগুলো একজন ফ্রিলান্সার -এর মাঝে থাকা উচিত। এই অভ্যাসগুলো না থাকার ফলে বিশেষত ৩য় বিশ্বের লোকজন ফ্রিলান্সার হিসেবে শুরু করে এবং অচিরেই পরাজিত হয় এবং তাদের আগের পেশা বেকারত্বে ফিরে আসে। চলুন দেখে নেই এই ১০ টি আলোচ্য অভ্যাস কি কি।

নিজেকে প্রচার করুন

আপনি যখন শুরু করলেন তখন আপনাকে কেউ চিনে না। আপনি আপনার পরিচিতি আপনার পাবলিক প্রোফাইলগুলোতে এমন কি আপনার ঘরের দরজায় লাগিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটা মনে করলে চলবে না যে অচিরেই কেউ আপনার দরজায় এসে কড়া নাড়বে। বরং, আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজের প্রচার করতে হবে। এটা এমন একটা বিষয় যা বেশিরভাগ মানুষের জন্য বিরক্তিকর। কিন্তু এটাই হচ্ছে টিকে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম উপায়। এইজন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল- বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং অন্যান্য কমিউনিটিতে যুক্ত হন, এমন ইভেন্টে যান যেখানে আপনি আপনার উপযুক্ত ক্লায়েন্ট পাবেন, এরকম আরও অনেক কিছু।

প্রতিদিন লিখুন/ ডিজাইন করুন

আমি CPA Elite ফোরামে কোন এক গ্রাফিক ডিজাইনারের সাথে পরিচিত। সে CPA Elite এ যুক্ত হওয়ার কিছুদিন পর এই ফোরামে তার পরিচিত সবাইকে অফার করেছে যে যার যার প্রয়োজন সে তাকে তাকে একটা করে ফ্রিতে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির লোগো ডিজাইন করে দিবে। যেই কথা সেই কাজ। আমার এক বড় ভাইও একটা কাজ করিয়ে ছিলেন। এবং আমি দেখলাম কাজটার মান যথেষ্ট ভালো। ভাবুন তো যাদের সে ফ্রি কাজ করে দিয়েছিল তাদের কখনো লোগো ডিজাইনার হায়ার করার দরকার হলে তার কথা কি একবার ভাববে না? সুতরাং বুজতেই পারছেন, আপনার হাতে কাজ না থাকলেও আপনি কাজ করুন। নিজের জন্য হলেও করুন । আর সবথেকে ভালো হয় তার মত কারো কারো ফ্রি কাজ করে দিন। এতে আপনার প্রচারের কাজও হয়ে যাবে।

সবসময় উপাস্থাপনা সুন্দর এবং স্বচ্ছ করুন

এই বিষয়টা সব ক্ষেত্রেই থাকা উচিত। ধরুন আপনার অফিসের বস আপনাকে একটা আনঅফিসিয়াল কাজ দিয়েছে। আপনি হয়তো ভাবছেন এটা আর গুছিয়ে করার কি আছে। কাজটা করে দিলেই তো  হল। তাই আপনি একটা ওয়ার্ড ফাইলে এলোমেলোভাবে কাজ করে দিয়ে দিলেন, কোন ফরমেটিং করলেন না, কোন মার্জিন দিলেন না। এইক্ষেত্রে আপনি হয়তো অনেক পরিশ্রম করে ভালোভাবেই কাজটা করেছিলেন। কিন্তু আপনার উপস্থাপনা থেকে মনে হবে আপনি কাজটা দায় সারা করেছেন। তাই কখনো উপাস্থাপনায় পাঞ্জলতার কথা ভুলে যাবেন না। মনে রাখবেন যাই করেন না কেন কাজটি পচন্দ করার জন্য কেউ যখন প্রথম চোখ বুলায় তখন প্রথম বিবেচ্য বিষয়ই হচ্ছে এটার বাহ্যিক অবয়ব।

একাধিক আয়ের উৎস নির্ধারণ

যখন আপনি নতুন কেউ আপনাকে চেনে না। সেই সময় আপনার আর তাদের মাঝে থাকে একটা ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেস (odesk.com, freelancer.com, elance.com). এখন আপনি কিছুদিন পর odesk এ বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে আপনার চাহিদার পরিবর্তন হয়ে গেছে। আপনি এখন ভাবলেন যে ডিজাইন করে তা এনভাটো তে বিক্রি করবেন। একটা কাজ করবেন আর সারা মাস ঘুমাবেন। তাই ভেবে আপনি যদি odesk ছেড়ে দেন তাহলে তা হবে মস্ত বড় বোকামি। কারন একটার পর একটা ডিজাইন জমা দিয়ে ৬ মাসে যখন আপনার একটাও ডিজাইন টিকবে না ঐদিকে তখন odesk এও আপনার জনপ্রিয়তা শেষ। তাই অন্য কিছু ভেবে আগেরটাকে বাদ দেওয়া যাবে না। একটা হাতে রেখেই আরেকটাতে হাত দিবেন।

স্বাধীনতার অসৎ ব্যাবহার করবেন না

আমরা সবাই জানি যে ফ্রিলান্স স্বাধীন পেশা। কিন্তু সেই সাধিনতার এতোটা ব্যাবহার করবেন না যে যাতে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। অনেকে আছেন যারা আওয়ারলি কাজের টুল চালিয়ে রেখে দিব্বি ভাতও খেয়ে নেন। মনে রাখবেন চোরের দশ দিন আর গ্রেহস্থের একদিন। এটা নিশ্চিত থাকেন যে এইধরনের অভ্যাস শুধরে না নিলে অচিরেই আপনিও শেষ সাথে আপনার ক্যারিয়ারও শেষ।

নিয়মানুবর্তী হতেই হবে

প্রত্যেক স্বাধীন পেশায় এই বিষয়টা খেয়াল রাখতে হয়। স্বাধীন পেশায়, কোন চাপ নেই তাই নিজের যখন যা খুশি তাই করে গেলে শেষে এসে দেখবেন কিছুই করা হয়ে উঠেনি। বিশেষ করে যারা কোন টেকনিক্যাল বা ক্রিয়েটিভ কাজ করেন তারা দৈনিক হাতে ধরে বেশ কিছুটা সময় নতুন জিনিস শিখবেন। নইলে স্রোতের সাথে থাকা আপনার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

সবসময় হাসিখুশি থাকুন

এই একটা বিষয় ফ্রিলান্সারদের কখনো বলতে হয় না। প্রায় সব ফ্রিলান্সাররাই ইতিবাচক এবং আশাবাদী হয়ে থাকেন। এবং চারপাশ সম্পর্কে তাদের অভিযোগ খুব কমই থাকে। আর তারা নিজের বেছে নেওয়া পেশাকে নিজের জন্য উপযুক্ত এবং মনের মত মনে করেন। তাই এই জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতিও তারা সবসময় কৃতজ্ঞ থাকেন। আর তাই জীবন সম্পর্কে যাদের অনেক অভিযোগ তাদেরকে বলে রাখি এটা ফ্রিলান্সারদের সাধারন অভ্যাসের মধ্যে অনুপস্থিত এবং তাদের এটা প্রয়োজনও হয় না। আপনার ক্লায়েন্ট, আশেপাশের মানুষ কার কাছ থেকে কি পাননি হিসাব বাদ দিন। যেহেতু আপনি ফ্রিলান্সার আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এই মহামূল্যবান রত্ন পেয়েছেন তার হিসাব করুন।

নিয়মিত প্রকৃতির কাছে যান

ফ্রিলান্সাররা সাধারনত বেশিরভাগ সময় বাসায় বা অফিসে কম্পিউটার নিয়েই থাকেন যাতে তাদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় রুটিন করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, কিংবা বাড়ির পাশের পার্কে গিয়ে পাখিদের ডাক শুনে আসুন। দেখবেন মনটা অনেক সতেজ থাকবে। তাতে কাজ করার সময় কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং কাজের মান ভালো হবে।

জীবন থেকে কিছু বিষয় সরিয়ে দিন

আপনি হয়তো আগে খেলা দেখতেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারতেন, কিংবা অনেক বেশি বই পড়তেন। এর কোনটাই খারাপ না। তবে আপনার দায়িত্ব এখন অনেক বেড়ে যাবে। তাই আপনি আগের মত সবদিকে সময় দিতে গেলে বোকামি করবেন। আমি বলছিনা যে একেবারে ছেড়ে দিবেন। তবে বন্ধুদের সাথে আড্ডা কমিয়ে দিন, রাত জেগে বা সারা দিন বসে বসে টেস্ট ক্রিকেট দেখার কোন দরকার নেই। খুব বেশি ইচ্ছে হলে দু,একদিন দেখতে পারেন। তবে অভ্যাস করে দেখবেন না। এই ধরনের আরও অনেক ভালো বিষয় আছে যেগুলো থেকে সরে না আসলে আপনি প্রচুর কাজ করতে পারবেন না। তবে মাঝে মাঝে রুটিন বাদ দিয়ে চলাও খুব প্রয়োজনীয়।

যেকোনো কাজ সময় মত শেষ করুন

আগে হয়তো আপনি একদিনের কাজ তিনদিনে করতেন। কিন্তু ফ্রিলান্সার হিসেবে এই ধরনের ভাববেনও না। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতেই হবে। আজকের কাজ কালকের জন্য রেখে দিলে কালকের কাজ কখন করবেন? এর বাইরেও সময় বাঁচানোর চেষ্টা করুন। তবে কাজের কোয়ালিটি ঠিক রেখে।
»» read more

Friday, 19 December 2014

ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনার (গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে মেগা পোস্ট)

অনেকেই মনে করেন যে, আর্টে বা চারুকলায় বিশ্বে ক্যারিয়ার খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। অনেকেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, চারুকলাকে যারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ অভাব-অনটনের কারণে। আর এ কারণেই অনেকেই বলে থাকেন, শিল্পী বিশেষ করে চারুকলা শিল্পীদের ভাত নেই। এ অবস্থা শুধু আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য ছিল, তা নয়। উন্নত বিশ্বেও এমন বিরাজমান ছিল। এখন এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগ বা বিশ্ব যার চালক হলো অতীতের চারুশিল্পী আর বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার। এক্ষেত্রে খুব সহজেই এখন ক্যারিয়ার খুঁজে পাওয়া যাবে। সৃজনশীল ও মেধাবীদের জন্য চারুকলা তথা আর্ট হলো এক চমৎকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র যেখানে বিরাজ করছে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ কিংবা বলা যায় সৃজনশীলদের সেরা কর্ম তুলে ধরার আদর্শ ক্ষেত্র। বলা হয়ে থাকে, গ্রাফিক্স ডিজাইনের ব্যাপক বিস্তৃত ক্ষেত্রের কারণে ক্যারিয়ার গড়ার এখন উপযুক্ত সুযোগ। যেকোনো চারুশিল্পী বা আর্টিস্ট তার ক্যারিয়ার হিসেবে এ সেক্টরকে বেছে নিতে পারেন নির্দ্বিধায়। কেননা বর্তমানে এটি বেশ চাহিদাপূর্ণ ও দৃঢ় একটি খাত।
গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ডিজিটাল মিডিয়াম বা মাধ্যম যার ফোকাস হলো ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন এবং কমিউনিকেশনের ওপর। কিছু কিছু ডিজাইন খুবই সাধারণ কর্পোরেট লোগোর মতো, আবার কিছু কিছু ডিজাইন বেশ জটিল ধরনের এক সিরিজ পূর্ণপৃষ্ঠা প্রিন্ট বিজ্ঞাপন বা ওয়েব ডিজাইন ধরনের। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা প্রকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে যেমন, তেমন রয়েছে কাজের স্বাধীনতাও।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তরুণ প্রজন্ম যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনকে নিজেদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন চুক্তিতে কাজ করছেন। আর তা মূলত তাদের মেধা বা প্রতিভা বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে ফেলছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে এ কথা সত্য, সৃজনশীলতাকে অন্য যেকোনো বিষয়ের জ্ঞানের বা দক্ষতা থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সাধারণত ডিজাইনারেরা মানসম্মত ও আকর্ষণীয় হৃদয়গ্রাহী কোনো ডিজাইন করার জন্য চূড়ান্ত সময় পর্যন্ত কাজ করে যান। তারা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার জন্য ইচ্ছেমাফিক কাজ করতে পারেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া। গ্রাফিক্স ডিজাইনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো কাজের অর্থাৎ পেশার স্থায়িত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকা যায়। ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বিশেষ করে ওয়েবপেজে ডিজাইনিংয়ের চাহিদার কারণে। এক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদার কারণে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা কোনো কোম্পোনিতে স্বাভাবিক নিয়মে নিয়োজিত যেমন থাকতে পারেন তেমনি, থাকতে পারেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এবং বেছে নিতে পারেন নিজের শিডিউল অনুযায়ী কাজ।
গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আপনার জন্য প্রধান এবং প্রথম কাজ হবে সঠিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজাইনের ক্ষেত্র বেছে নেয়া। আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে রয়েছে ভালোমানের প্রশিক্ষণসহ চমৎকার শিক্ষার পরিবেশ। সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। সুতরাং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হবার আগে ভালো করে খোঁজ নিয়ে জেনে নিন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষকের যোগ্যতা, মেধা, মনন, শিক্ষার পরিবেশসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার কী
গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো সাম্প্রতিক সময়ের অতি দ্রুত সম্প্রসারণশীল এক শিল্পকর্ম। পেশাজীবীরা গ্রাফিক্স ডিজাইনে যেমন চান সৃজনশীলতার ছোঁয়া থাকুক, তেমনি চান এক্ষেত্রে থাকুক সাংগঠনিক সুযোগ-সুবিধা, যা গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডিজাইনারদের সহায়তা দেবে। বহির্বিশ্ব ছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশেও এখন অনেকেরই ওয়েবসাইট রয়েছে বা অন্যভাবে বলা যায় ওয়েবে উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং তা ক্রমশ বাড়ছে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ারকে মোটেও হাল্কাভাবে নেয়া উচিত হবে না। গ্রাফিক্স ডিজাইনের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোকে গুরুত্বের সাথে নিতে চান, তাহলে সবচেয়ে জরুরি হলো আপনার দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন তৈরি করা এবং সবচেয়ে সফল গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার মনোবাসনা থাকা। আমাদের সবারই মনে থাকা দরকার সুনাম এবং সেবার মান যেকোনো ধরনের ক্যারিয়ারের সফলতার চাবিকাঠি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের শিক্ষা
বর্তমান অর্থনীতিতে কাজ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হলেও যেগুলো সৃজনশীলতার জন্য পুরস্কৃত হতে হয় এমন কাজ সচরাচর পাওয়া যায়, তা বিশ্বাস করা কঠিন। গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি স্থিতিশীল এবং দ্রুত সম্প্রসারণশীল শিল্প। বিশ্বের প্রতিটি একক সংস্থাকে কোনো না কোনো সময় গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাছে ধর্ণা দিতে অর্থাৎ শরণাপন্ন হতে হয় তাদের কর্পোরেট লোগো, বিজ্ঞাপনের লেআউট, ওয়েব ডিজাইন বা বিপুলসংখ্যক ফরমের ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন ও প্রেজেন্টেশনের জন্য। লক্ষণীয়, ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা কখনই সেকেলে হয়ে যান না বা কর্মহীন হয়ে হতাশায় ভোগেন না। ইদানীং ডিজিটাল মিডিয়া এনভায়রনমেন্টের ধরন-প্রকৃতির কারণে সম্ভাব্য গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য দরকার হয় শৈল্পিক প্রতিভার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর দক্ষতা। যেকোনো গ্রাফিক্স ডিজাইন স্কুল থেকে ভালোভাবে প্রশিক্ষিত হয়ে যথাযথভাবে নিজেকে প্রস্ত্তত করে বর্তমান ডিজাইন মার্কেটে সম্পৃক্ত করা উচিত। গ্রাফিক্স ডিজাইনের ছাত্রদেরকে শিখতে হবে এইচটিএমএল, জাভাসহ অন্যান্য ওয়েব ডিজাইন সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন, যাতে বেসিক কোডিং ও ওয়েব ডিজাইনে সক্ষমতা অর্জন করা যায়। এতে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন ফ্রিল্যান্স মার্কেটে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাহিদা
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বাজার চাহিদা নির্ভর করে মূলত দুটি প্রধান উপাদানের ওপর। গ্রাফিক্স ডিজাইনে প্রতিভাদের সাথে মিশে আছে অনেক ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রফেশনাল, যেমন- ভিডিও গেম, বিজ্ঞাপন, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট ডিজাইনসহ আরো অনেক। বলা যায়, গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের বেতন আইটি খাতের অন্য প্রফেশনালদের তুলনায় বেশ কম। তারপরও এ ক্ষেত্রে প্রফেশনালদের সবচেয়ে সুবিধা হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনে প্রফেশনালদের চাকরি আইসিটি খাতের অন্যান্য সেক্টরের মতো তেমন অস্থায়ী এবং অনিশ্চয়তাপূর্ণ নয়। কেননা ইন্টারনেট বর্তমানে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশে পরিণত হওয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। তা আগামী দিনেও বাড়তে থাকবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের মধ্যে প্রচুর প্রতিযোগিতা থাকলেও গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রফেশনালেরা কখনই বেকার হয়ে থাকবেন না।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ
গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সৃষ্টি করেন ভিজ্যুয়াল ইমেজ, যা সমস্যার সমাধান করে কিংবা কমিউনিকেট করে এক মেসেজ। ইদানীং গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ব্যবহার করেন কমপিউটার সফটওয়্যার। মূলত তাদের সৃষ্ট কর্মের ইলেক্ট্রনিক ভার্সন তৈরি করতেই এই কমপিউটার ও সফটওয়্যারের ব্যবহার হয়। অনলাইন মিডিয়ায় বা প্রিন্ট মিডিয়ায় গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা নিয়োজিত হতে পারেন বিভিন্ন ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের কাজের উদ্দেশ্যে। গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের দক্ষতা হলো ইমেজ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের থাকতে হবে ইউনিক, কার্যকর ডিজাইন তৈরির সক্ষমতা যা প্রজেক্টের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে।
কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা অনেক সময় প্রয়োজনবোধে ক্লায়েন্টের সাথে মতবিনিময় করেন তাদের প্রজেক্ট নিয়ে। যদি ওয়েবসাইটের ডিজাইন তৈরির কাজ হয়ে থাকে, তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জেনে নিয়ে ওয়েবপেজের লেআউট তৈরি করার জন্য সিলেক্ট করেন কালার, ইমেজ, টেক্সচার ও শেপ। কমপিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ওয়েবসাইটের জন্য টেম্পলেট তৈরি করেন।
বর্তমানে ওয়েবসাইট ডিজাইন একটি ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা ওয়েব পেজের লেআউট তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে আরো যেসব বিষয় সম্পৃক্ত থাকে তা নিম্নরূপ : ভিডিও গেম ডিজাইন, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, সাংবাদিকতা, পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের লেআউট তৈরিসহ অন্যান্য বিষয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বোচ্চ বেতন : গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্ষেত্র দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন টেকনোলজি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্টি করছে নতুন নতুন চাহিদা। গ্রাফিক্স ডিজাইন তেমন এক চাহিদাসম্পন্ন টেকনোলজি ক্ষেত্র, যা অতীতে ছিল শুধু আর্টিস্টকেন্দ্রিক। ইন্ডাস্ট্রিতে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কাজ বা চাকরি রয়েছে যার জন্য দরকার মাল্টিমিডিয়া ও বিভিন্ন ধরনের কমপিউটার সফটওয়্যার কাজে দক্ষতা, যারা কাজ করবেন মার্কেটিং ও প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়াল, মিউজিক, ভিডিও, প্রিন্টেডে ডকুমেন্ট, ওয়েবপেজসহ আরও অনেক ক্ষেত্র নিয়ে। গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রে সম্প্রতি আরও একটি মাধ্যম যুক্ত হয়েছে। তা অনেক দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন এ মাধ্যমে যেকেউ কাজ করতে পারেন যেমন- ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া অর্থাৎ ওয়েব ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি।
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার কয়েকটি কারণ
গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রি ক্রমসম্প্রসারণশীল ইন্ডাস্ট্রি :
সব ইন্ডাস্ট্রির যে ক্রমোন্নতি হয় তা নয়, যেহেতু আমাদের অর্থনীতি এবং জীবনধারা পরিবর্তনশীল। তাই কখনো কখনো কোনো কোনো পেশা সেকেলে বা বাতিল হয়ে গেলেও গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকের পরিসংখ্যানমতে জানা যায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত গ্রাফিক্স ডিজাইনের অবস্থান কমপক্ষে ১৩ শতাংশ বাড়বে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পান : c
আর্ট কলেজের ডিগ্রিধারীদের রয়েছে কমপিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনের অভিজ্ঞতা তাদের স্টার্টিং বেতন আমাদের দেশে ক্ষেত্রবিশেষে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা, আর আমেরিকায় ১৬,০০০-২০,০০০ ডলার। অবশ্য আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব গ্রাফিক্স আর্টের ২০১৪ সালের তথ্যমতে শুরুতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের গড় বেতন ৩৫,০০০ ডলার।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সম্ভাব্য পদোন্নতি :
বেশিরভাগ গ্রাফিক্স ডিজাইনার তাদের ক্যারিয়ার শুরু করেন এন্ট্রি লেভেলের ডিজাইনার হিসেবে বা গ্রাফিক্স ডিজাইন অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে। অবশ্য তাদের এ অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয় না। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ২/৩ বছরের মধ্যে তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে পদোন্নতি লাভ করতে পারেন খুব সহজেই। কেননা এক্ষেত্রে এখনো জনবল খুব কম।
গ্রাফিক্স ডিজাইনারের নমনীয়তা :
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা স্বতন্ত্র বিভিন্ন ধরনের কাজের উপযোগী। যদি আপনি অন্যদের সাথে কাজ করতে উপযোগী হয়ে থাকেন, তাহলে ডিজাইন ফার্মে কাজ করতে পারবেন ডিজাইনার টিমের সাথে। এক্ষেত্রে আপনার সারাদিন কেটে যাবে ব্রেইনস্ট্রিমিংয়ের সেশনের কাজে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইন এক চমৎকার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে পারেন যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে অভিজ্ঞ ও সৃজনশীল হয়ে থাকেন।
গ্রাফিক্স ডিজাইন সৃজনশীল :
গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনাকে সবসময় নতুন কিছু করতে হয়, নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করতে হয়, নতুন নতুন ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট করতে হয়। ভালো ও সৃজনশীল গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা তাদের ক্লায়েন্টদের সাথে ভিজ্যুয়ালি কমিউনিকেট করার নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি ধৈর্যের কাজ, মোটেও তা বিরক্তিকর নয়।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা সৃষ্টি করতে পারেন ভিন্নতা :
ছবি হাজার কথা বলে। কিছু গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা তাদের কর্মে ছবি ব্যবহার করেন ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করতে, যা জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতে পারে পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে।
গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বিখ্যাত হতে পারেন :
পুরনো দিনের আর্টিস্টের কাজ আজকের যুগের গ্রাফিক্স ডিজাইনার দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে অনেকখানি। গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারেন। এর ফলে পরে হয়তো হয়েও যেতে পারেন বিখ্যাত কোনো শিল্পী। পাবলো পিকাসো, ভ্যান গগ, জয়নুল আবেদিন প্রভৃতি শিল্পী তাদের সৃজনশীল শিল্পকর্ম দিয়ে যেমন জগৎখ্যাত হয়েছেন তেমনি আপনিও আধুনিক গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে আপনার সৃজনশীল অভিব্যক্তি তুলে ধরে জগৎখ্যাত হাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাফিক্স ডিজাইনারের বার্ষিক বেতনের চার্ট নিচে দেখানো হয়েছে, যা ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিক্স ওইএম-২০১৪-এ প্রকাশ করা হয়। এ চার্টে শীর্ষ পাঁচ ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ গড় বেতন কমপিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন গড় বেতন প্রিন্টিং গ্রাফিক্স ডিজাইনারের তুলনামূলক চিত্র দেখানো হয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা কমপিউটারে আর্ট লেআউট, ইন্টারনেট, প্রিন্ট অ্যাডভার্টাইজিং ম্যাটেরিয়াল, খবরের কাগজ, বই ছাপা, ভিডিও তৈরি ইত্যাদিসহ অনেক কাজ করেন। এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইনারেরা আরো অগ্রসর পর্যায়ে, কাজ করতে পারেন সফটওয়্যার ব্যবহার করে। যেমন- স্পেশাল ইফেক্ট, অ্যানিমেশন ইন্টারেক্টিভ টেকনোলজি ও গেম ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
»» read more

Tuesday, 9 April 2013

Free internet use

free internet use korta visit korun   http://paponblog.tk
»» read more

Monday, 4 February 2013

বিলুপ্তির পথে জলাভূমির মৃত্যুদানব

ওরা দেখতে কুৎসিত, লম্বা মুখে বিশাল দাঁতের সারি সবসময় খাই খাই করে। জলের ওপর শুধু নাকটা ভেসে থাকে, নিঃশব্দে ভেসে বেড়ায়, কুঁতকুঁতে চোখ দু’টো সতর্ক, শিকারের সন্ধানে উন্মুখ। জলার ধারে পানি খেতে আসা অ্যান্টিলোপ, বরাহ কিংবা বাইসন ওদের সহজ টার্গেট, বাগে পেলে মানুষের মাংসেও অরুচি নেই। ভয়ংকর জোর গায়ে, কাঁটাযুক্ত ধারালো লেজওলা লম্বা, ভাসমান কালো শরীরটাকে দূর থেকে দেখে গাছের গুঁড়ি বলে ভ্রম হতে পারে সহজেই। খবরদার ভুলেও যেন ওটার কাছে যাওয়া না হয়, কারণ জলাশয়ের পানিতে ভেসে বেড়ানো সরীসৃপ গোত্রের এই প্রাণীটা সাক্ষাৎ এক মৃত্যুদানব "কুমির!"



জলাশয়ের স্থায়ী বাসিন্দা ভয়ংকর এই প্রাণীটির পৃথিবীতে বাস দুই’শ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে। মোট ২১ প্রজাতির কুমির আছে সারা দুনিয়ায়, আমেরিকান অ্যালিগেটরসহ। কিন্তু এই প্রাণীটি ক্রমশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বুক থেকে। নাইজেরিয়ার একটি জলাভূমিতে শাক সবজি উৎপাদনের জন্য পানি শুকিয়ে ফেললে তিন বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের সব কুমির অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলো। ১৯৬৭ সালে প্যারিসে এক ধনী আমেরিকান ৭,৫০০ ডলার দিয়ে নোনা পানির একটি কুমিরের চামড়া কিনেছিলেন তার পোর্টেবল বারকে ঢেকে রাখার জন্য। এক জরিপের তথ্য হচ্ছে, উত্তর অস্ট্রেলিয়ার লিভারপুল নদীতে একরাতে কুমির শিকারীরা চল্লিশটি কুমির হত্যা করেছিলো। কুমির হত্যা বন্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতই আইন প্রয়োগ করুক না কেন যে হারে এই প্রাণীটির নিধনযজ্ঞ চলছে তাতে এই শতাব্দী শেষ হবার আগেই শুধুমাত্র আমেরিকান অ্যালিগেটর ছাড়া অন্য কোন প্রজাতির কুমির কোথাও থাকবে না।

বিজ্ঞানীরাও ইদানিং কুমিরের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এই প্রাণীটির ওপর গবেষণা চালানো যে বড়ই কষ্টকর। কারণ এরা থাকে নির্জন, জনবিরল প্রত্যন্ত এলাকায়, বেশিরভাগ সময় কাদার মধ্যে ঘাপটি মেরে  থাকে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময় এরা কিছুই করে না, চুপচাপ ঝিমোয়। কিন্তু যখন জেগে ওঠে তখন এদের কাজগুলো দেখার মতোনই হয় বটে।

ডাইনোসররা বহু আগে পটল তুললেও তাদের স্বজাতি কুমিররা কিন্তু এখনও বহাল তবিয়তেই পৃথিবীতে বাস করছে। অন্যান্য সরীসৃপদের তুলনায় এই প্রাণীর মস্তিষ্ক অনেক জটিল। বেশিরভাগ কুমির পাখির মতোই বাসা বাঁধে। মাত্র কিছু প্রজাতি একা থাকতে পছন্দ করে। তাদের হিসহিস, নাক দিয়ে ঘোঁতঘোঁত ইত্যাদি শব্দ কিছু না কিছু অর্থ বহন করে।

পূর্ণ বয়স্ক কুমির ৩ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়, ওজন ১ টনেরও কিছু বেশি। কিছু প্রজাতির কুমির এক’শ বছরেরও বেশি বাঁচে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

কুমিরদের মধ্যে নোনা পানির কুমিরগুলো হয় সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। ৩৩ ফুট লম্বা কুমিরেরও দেখা মিলেছে কুইনসল্যান্ডে। ধারণা করা হয়, কুমিররা ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে। ফিজির সাগর তলেও বেশ কিছু কুমির বাস করে। কারণ তারা ঢেউয়ের দোলা একটুও পছন্দ করে না। উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় নোনাপানির কুমিরের সংখ্যা এক সময় মিলিয়নেরও বেশি ছিলো। কিন্তু সংখ্যাটা এখন ৫ হাজারে এসে ঠেকেছে। নোনা পানির এই কুমিরদের হিংস্রতা সম্পর্কে অনেক গল্প আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাকি বার্মিজ এক জলাভূমিতে হাজারেরও বেশি জাপানিকে সেখানকার কুমিরগুলো মহাউৎসাহে ভক্ষণ করেছিলো। ১৯৭৬ সালে, ইন্দোনেশিয়ার একটি ডুবন্ত ফেরি বোটের ৪০ জন আরোহীকে গলাধঃকরণ করেছিলো কুমির।

মানিনগ্রাডের বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এসব ঘটনাকে ‘গল্প’ বলে উড়িয়ে  দিতে চেয়েছেন। তাদের ধারণা কুমির নেহায়েতই ভীরু প্রকৃতির প্রাণী, মানুষজন সবসময় এড়িয়ে চলে। কিন্তু তারপরও বহুবার কুমিরের শিকার হয়েছে মানুষ। কিছুদিন আগে কুইনসল্যান্ডের এক তরুণ খনি শ্রমিক গিয়েছিল বরাহ শিকারে। তাকে জলাভূমিতে নেমে সাঁতরাতে দেখে তার এক বন্ধু। তারপর তার আর কোন খোঁজ নেই। পরে স্থানীয় এক পুলিশ অফিসার হতভাগ্য ছেলেটির আধ খাওয়া শরীর আবিষ্কার করেছিলো ওই জলাভূমি থেকে ধরা পড়া ১৮ ফুট লম্বা এক কুমিরের পেটে।

তবে মানুষখেকো হিসেবে মোট তিন জাতের কুমিরকে দায়ী করা যায়। এরা হচ্ছে নোনা পানির কুমির, আফ্রিকার নীল নদের কুমির এবং বৃহৎ আমেরিকান অ্যালিগেটর। তবে ভারতের মকর নামের এক শ্রেণীর কুমিরও মানুষের ওপর হামলা চালায় তাদের শান্তি বিঘ্নিত হলে।

কুমিরদের সম্পর্কে একটি মজার তথ্য হচ্ছে, এরা খাবার চিবোয় না, স্রেফ গিলে ফেলে। এমনকি পাথরও নাকি গপ করেই গিলে খায় এরা। তবে এদের জারক রস এতোই শক্তিশালী যে তারা পাথর পর্যন্ত হজম করে ফেলতে পারে।

শুরুতেই বলা হয়েছে, জলাশয়ের এই দানবটি এখন নিশ্চিহ্ন হবার পথে। এর একমাত্র কারন, এদের চামড়া। কুমিরের চামড়ার তৈরী মানিব্যাগের দাম ১২০০ টাকা, হাতব্যাগ ৮০০০ টাকা। মরা হাতির মতো মরা কুমিরও কুমির শিকারীদের কাছে লাখ টাকা দাম। কেনিয়ার লেক টুরকানাডে ৬৬ সালে ১২০০০ হাজার কুমির ছিল। কিন্তু চোরাশিকারীদের কারণে এই সংখ্যাটা এখন এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় শূণ্যের কোঠাতেই।

আফ্রিকার প্রকৃতি কুমিরদের বসবাসের জন্য খুবই কঠিন জায়গা। কিন্তু মানুষ তার জন্য আরো কঠোর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকান সরকার দলবদ্ধভাবে কুমির শিকার বন্ধ করলেও চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম একটুও হ্রাস পায়নি।


ভারতে ঘড়িয়াল কুমিরদের রক্ষা করার প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। সারা ভারতে ঘড়িয়াল কুমিরদের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ষাট, আর নেপালে সম্ভবত চল্লিশ। ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই এদের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে রাজা বাদশাদের রাজকীয়  শিকারের কবলে পড়ে। উড়িষ্যায় এক মহারাজা একদিনে এক’শ ঘড়িয়াল হত্যা করেছিলেন শুধু টার্গেট প্রাকটিশ করতে, এমন কথাও শোনা যায়। তবে পঞ্চাশ এর দশকের শুরু থেকে ঘড়িয়ালদের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। এর কারণ হচ্ছে বাধ তৈরি, চোরা শিকার এবং যথেচ্ছ মৎস শিকার।

জেলেরাও কিন্তু কুমির শিকারের জন্য যথেষ্ট দায়ী। কারণ কুমিরকে তারা প্রকৃতির শত্রু মনে করে, ভাবে এগুলো অতিশয় পেটুক, সকল মাছ এরাই সাবাড় করছে। প্রকৃতপক্ষে কুমির খায় খুব কমই, বেশিরভাগ খাবার সঞ্চয় করে রাখে। আর যে সব মাছ তারা শিকার করে সেগুলো জেলেরা সাধারণত ধরে না।

কুমির চাষ লাভজনক ব্যবসা বলে অনেকেই কুমিরের ফার্ম করেছেন। নিউগিনি থেকে জাপান কুমিরের ফার্ম একটি সাধারণ জিনিস। ভারতের উত্তর প্রদেশের দু’টো অঞ্চলে ঘড়িয়াল উৎপাদনের কেন্দ্র রয়েছে। নন্দনকানন বায়োলজিক্যাল পার্কে ২০ ফুট লম্বা ঘড়িয়ালও রয়েছে। তবে আমাদের মীরপুরের চিড়িয়াখানায় শিশু চেহারার যে দু’টি কুমির রয়েছে সেগুলো অন্যান্যদের তুলনায় কিছুই না।

সেন্ট লুসিয়ায় টনি নামে এক ব্যক্তির কুমির খামারে রয়েছে হরেক রকমের কুমির। এদের মধ্যে ৮০ বছর বয়স্ক, ১৪ ফুট লম্বা উলফগ্যাং কুমিরটি খুবই হিংস্র স্বভাবের। সে একবার তার এক ১০ ফুট লম্বা স্বজাতিকে কামড়ে প্রায় মেরে ফেলারই জোগাড় করেছিল। উলফগ্যাং ঐ খামারের কর্তা। ওখানকার সব কুমির তাকে রীতিমত সমঝে চলে। মেরী নামের আরেকটি কুমির, এটি মেয়ে, নভেম্বর মাসে এই পুকুরের পাড়ে গর্ত খুঁড়ে চল্লিশটির মত ডিম পেড়েছিলো। কিন্তু বাচ্চা ফুটে বেরুবার পর উলফগ্যাং সুযোগ বুঝে সেগুলোকে খেয়ে ফেলে। তবে ইদানিং উলফগ্যাং সেই সুযোগ আর পায় না। কারণ মেরী রীতিমত তার বাচ্চাদের পাহারা দিয়ে রাখে। 


এরকম আরেকটি ব্যক্তিগত খামারের মালিক ওয়েষ্ট পামবীচের এড এবং ফ্রান্সিন ফ্রয়লিক দম্পতি। তাদের খামারে কুমিরের সংখ্যা ২,৫০০। প্রতি সপ্তাহে এই কুমিরগুলো ৩,০০০ পাউন্ড মাছ এবং মাংস খায়। ফ্রয়লিকরা তাদের খামারে আরো ১০০০ কুমির উৎপাদনের কথা চিন্তা করছেন। কারণ  কুমিরের চাষে তাদের আর্থিক লাভের অঙ্কটা নেহায়েত কম না।

কুমিরের চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা বলে এদিকে ইদানিং অনেকেই এগিয়ে আসছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এটি একটি শুভ সংবাদ। কিন্তু দুঃসংবাদ হচ্ছে চোরা কুমির শিকারীদের দৌরাত্ম ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বেশিরভাগ জীব বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা এভাবে কুমির নিধনযজ্ঞ চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে আর কোনো কুমিরই থাকবে না। কুমিরের মাংস অনেকের প্রিয়। এজন্যেও দেদারসে এই প্রাণীটিকে হত্যা করা হচ্ছে। এই লোভ দমন করা সম্ভব না হলে কোটি বছরের এই প্রাচীন প্রজাতিটি একদিন হয়তো তার বিলুপ্ত স্বজাতি ডাইনোসরদের মতোই বিলীন হয়ে যাবে।
»» read more

Friday, 25 January 2013

আপনার Opera mini তে দেশের সব ভাষা দেখুন

আপনার আপেরা মিনি ওপেন করে এড্রেস বার থেকে www. কেটে দিয়ে টাইপ করুন about:config আথবা opera:config লিখে GO তে ক্লিক করুন ।
undefined
সবার নিচে দেখবে Use bitmap front complex লেখাতে NO দেয়া আছে এটা YES করে দিয়ে Save এ ক্লিক করুন । তাহলেই সব ভাষা দেখতে পাবে । সবাইকে ধন্যবাদ ।
»» read more

আপনার মোবাইলের অপারেটর লগো পরিবর্তন করুন নিজেই

আপনার মোবাইলের operator logo পরিবর্তন করুন নিজেই* Operator Logo কি? Operator Logo হচ্ছে এমন একটি গ্রাফিক্স যেটি আপনার ফোনের Operator Name (Robi, Grameen Phone, etc) এরজায়গায় দেখাবে, কিভাবে এটি তৈরি করবেন? একটি ছোট সাইজের (সাইজ ছোট বড় করতে Images converter/mobile photoshop নিতে পারেন) পিকচার নিন, তার পর সেটিকে সরাসরি মেমোরি কার্ডে কপি করুন (কোন ফোল্ডারে নয়) । তারপর সেটিকে File explorer/BlueFTP/Xplore ( about BlueFTP)দিয়ে logo.oplc নামে রিনেম করুন । এখন Music Player open করুন এবং Music Menu /Options / Downloads/ Go To Address এ যান, তারপর “rtsp:// ” কেটে দিয়ে কোনো Space ছাড়া লিখুন file:///e: /logo.oplc এবং Ok করুন এবং তারপর Back করুন । (লাল বাটমে চাপ না দিয়ে লালটার উপরে Back চাপুন) এখন “Operator Logo Recieved. Show? Save? ”এমন একটা মেসেজ দেখতে পাবেন । এটিকেSave করুন । কাজ শেষ । এবার দেখুন অপারেটরের নামের যায়গায় আপনার পিকচারটি, এটিকে বন্ধ করতে Phone Setting / Display 

»» read more

Wednesday, 12 December 2012

Magic moment

This is 12-12-12 magic day ,
Happy 12-12-12 ♥♥

 এই সে ক্ষন ১২-১২-১২ যাকে আমরা আবার খুজে পাবো ১০০ বছর পর ।
»» read more

Monday, 19 November 2012

আসুন জানি ডাইনোসরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানা ও অজানা কিছু তথ্য

ডাইনোসর শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত।শব্দটি মনে হতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি বিশালদেহী জন্তুর অবয়ব।এ নিয়ে যেনো জানার আগ্রহের শেষ নেই।এক সময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল ও বিরাট আর শক্তিশালী এ জন্তুটি পৃথিবীতে বিচরণ করেছিল প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বা ১৬০০০০০০০ বছর যাবত। পৃথিবীতে ডাইনোসরের উদ্ভব হয় ২৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে (ট্রিয়াসিক যুগ) আর ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে (ক্রিটেশিয়াস-টারশীয়ারী যুগ) এর বেশীরভাগ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে।
আমরা বর্তমানে যে সকল পাখি দেখতে পাই,তাদেরকে ডাইনাসোরেরই কিছু প্রজাতির বিবর্তিত রূপ বলে ধারণা করা হয় কারণ ডাইনোসরের যে সকল ফসিল বা জীবাশ্ম রয়েছে,তা থেকে বিশ্লেষিত তথ্য আমাদের এ ধারণাই দেয় যে,পাখি theropod ডাইনোসরেরই বিবর্তিত রূপ ।
Dinosaur শব্দটি প্রবর্তন করেন ইংলিশ জীবাশ্মবীজ্ঞানী Richard Owen।গ্রীক শব্দ Denios এবং Sauros থেকে এ শব্দের উৎপত্তি। Denios অর্থ ভয়ঙ্কর আর Sauros অর্থ টিকটিকি।অর্থাত,ভয়ঙ্কর টিকটিকি।
বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন,ডাইনোসর ছিলো মন্থর গতিসম্পন্ন,স্বল্পবুদ্ধি ও ঠান্ডা মেজাজের প্রাণী।কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ধারণার পরিবর্তন ঘটে।

ডাইনোসরের মধ্যে মূলত প্রজাতির বিভিন্নতা ছিল প্রচুর

এদের কিছু প্রজাতি ছিল মাংশাসী,কিছু ছিল তৃণভোজী,কিছু প্রজাতী দুপায়ে হাটতে পারত আবার কিছু প্রজাতি চারপায়ে হাটত।কোনোটি উচ্চতায় ছিল প্রায় ১০০ ফুট আবার কোনোটী ছিল মুরগীর সমান।এ পর্যন্ত ডাইনোসরের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৫০০,তবে জীবাশ্ম রেকর্ডের ভিত্তিতে ১৮৫০ টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।অর্থাত এখনো প্রায় ৭৫% প্রজাতি আবিষ্কারের অপেক্ষায়।
অবশ্য এর পূর্ববর্তী এক গবেষণায় পৃথিবীতে ৩৪০০প্রজাতির ডাইনোসর ছিল বলে উল্লেখ করা হয় যার বেশীর ভাগেরই অস্তিত্ব বর্তমানে টিকে থাকা জীবাশ্মে নেই।ডাইনোসরের বিচরণ ছিল পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে,এমনকি এন্টার্কটিকায়ও এর অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া গেছে।

অনেক প্রজাতির ডাইনোসরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম নিচে দেয়া হলো

:arrow: Saurischia: এসব ডাইনোসরের পম্চাত ছিল সরীসৃপদের মতো

:arrow: Theropods: এটি মাংসভোজি ডাইনোসরের দল
:arrow: Sauropods: এরা লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকত। এদের ছিল খুব লম্বা লম্বা গলা

:arrow: Ornithischia: এরা লতাপাতা ভোজি যাদের কারো কারো পাখির মতো ঠোঁট ছিল

:arrow: Armoured dinosaurs: এদের পিঠে ছিল বড় বড় হাড় যা এদেরকে রক্ষা করত

:arrow: Ornithopoda: এরা “duck-billed” ডাইনোসর

:arrow: Pachycephalosauria: এসব ডাইনোসরের মাথা ছিল খুব শক্ত

:arrow: Ceratopsia: এরা শিংওয়ালা জাতির অন্তর্ভূক্ত

ডাইনোসরের আকার ও আকৃতি

প্রজাতিভেদে ডাইনোসরের আকার ও আকৃতিগত অনেক বিভিন্নতা ছিল। বৃহদাকার ডাইনোসরদের মধ্যে যেগুলোর নাম উল্লেখযোগ্য তাদের মধ্যে একটি হলো Giraffatitan brancai যার উচ্চতা ছিলো ১২ মিটার(৩৯ ফুট) এবং লম্বায় ২২.৫ মিটার(৭৪ ফুট) এবং ওজন ছিলো ৩০০০০ থেকে ৬০০০০ কেজি।তাঞ্জানিয়ায় এর অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়।এছাড়াও আছে T Rex যার দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ ফুট এবং উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ ফুট।
Diplodocus প্রজাতির আরেক ধরনের ডাইনোসর ছিলো যা লম্বায় ছিলো ২৭ মিটার (৮৯ ফুট)।এর অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় আমেরিকায়।বিশালাকার তৃণভোজীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Argentinosaurus zar ওজন ৮০০০০ থেকে ১০০০০০ কেজি। এছাড়াও রয়েছে Diplodocus hallorum যা ৩৩.৫ লম্বা(১১০ ফুট),৩৩ মিটার দীর্ঘ Supersaurus ,১৮ মিটার(৫৯ ফুট) উচ্চতাবিশিষ্ট Sauroposeidon ।মাংশাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম Giganotosaurus,Carcharodontosaurus এবং Tyrannosaurus ।
ডাইনোসর বলতে যে শুধু বিশালাকার দেহের জন্তু বোঝায় তা নয়,বরং খুবই ছোট আকারের ডাইনোসরও সেসময় ছিল। সবচেয়ে ছোট ডাইনোসর Anchiornis এর ওজন ছিল ১১০ গ্রাম। তৃনভোজী Microceratus এবং Wannanosaurus এর দৈর্ঘ্য ৬০সেন্টিমিটার(২ ফুট) ।
অন্যান্য প্রানীর মতো ডাইনোসরও দলবদ্ধভাবে বসবাস করত। তাছাড়া তাদের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণও ছিল প্রকট। কোন কোন প্রজাতির শৈশবকাল তুলনামূলকভাবে অন্য প্রজাতির চেয়ে বেশী ছিল।

ডাউনোসরের বিলুপ্তি

ডাইনোসরের বিলুপ্তির সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরিভাবে জানতে পারা যায়নি।তবে অনেক বিজ্ঞানীই মনে করছেন কোনো বড় আকারের উল্কাপিন্ড পৃথিবীর উপর প্রবলভাবে আঘাত হানার ফলে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়।তাদের মতে ,উল্কাটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং এর আঘাত পারমাণবিক বোমার চেয়ে এক বিলিয়ণ গুণ বেশী শক্তিশালী ছিল।
তবে কেউ কেউ মনে করেন,উল্কার আঘাতে নয় বরং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুতপাতের ফলে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে ।
তাছাড়া খাদ্যাভাবকেও অনেকে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ মনে করেন।সেসময় মাংশাসী ডাইনোসর তৃণভোজী ডাইনোসরদের খেয়ে ফেলত বিধায় এক সময় খাদ্যাভাব সংঘটিত হয় বলে অনেকের ধারণা।
তাপমাত্রার পরিবর্তনকেও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।অনেকের মতে সেসময় পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রার এক ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যার সাথে অভিযোজিত হতে না পেরে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়।
বিশালাকার ডাইনোসরেরা চলাফেরায় ধীর ও স্থবিরতার ফলে এবং নোংরা পরিবেশের কারণে তারা বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগের শিকার হয় এবং এভাবে এক সময় বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হয় বলে অনেকে মনে করেন।
তবে ডাইনোসরের বিলুপ্তিতে আরেকটি কারণকে প্রাধান্য দেয়া হয় তা হলো,তাদের ডিমের খোসার পুরুত্ব।পরীক্ষায় দেখা যায়,সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের ডিমের খোসা ১২ থেকে ১৪ কোটি বছর আগের ডিমের খোসার চেয়ে যথেষ্ট পুরু ছিল ।ফলে ডিমের খোসা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা বাচ্চা ডাইনোসরের পক্ষে কষ্টকর ব্যাপার ছিল।এর ফলে পরবর্তীতে ডাইনোসরের বিকলাংগতা দেখা দিত এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেত। এভাবে এক সময় তারা বিলুপ্তির দিকে অগ্রসর হয়।
»» read more

photo gallery: 5


»» read more

Wednesday, 17 October 2012

photo gallery : 4





»» read more

ভাষার খোঁজে নেপালে

 আমাদের দেশের মানুষ তো এখন খুব বেড়াতে যায়। আগেকার দিনের মানুষের বেড়ানো কিন্তু এখনকার দিনের মানুষের মতো ছিলো না। আগেকার দিনে মানুষ নানা উপলক্ষে গ্রাম থেকে শহরে যেতো। শহরে গিয়ে নানা কিছু দেখে আনন্দ পেতো। আবার বেশ লম্বা ছুটিতে শহরের মানুষও গ্রামে গিয়ে বেশ ক’দিন খুব মজা করে ঘুরে আসতো। এখন সেই ধারাটিই বদলে গেছে। এখন আর শহরের মানুষ গ্রামে গিয়ে খুব একটা ছুটি কাটায় না। যাদের মোটামুটি সঙ্গতি আছে তারা বাংলাদেশের নানা জায়গায় ছুটি কাটাতে চলে যায়। প্রতিবছরই নানা ছুটিতে কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটা অথবা সিলেটের নানা জায়গায় কত্তো ভীড় হয়! আবার যাদের আরেকটু বেশি সঙ্গতি আছে, তারা আমাদের এশিয়া মহাদেশেরই নানা দেশে যায়; কেউ ভারতে যায়; তবে ভারতে এখন কমই যায়; এখন বেশি যায় সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়। যাদের আরো বেশি সঙ্গতি আছে তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার নানান দেশে বেড়াতে যায়। এখনকার দিনের একটা অদ্ভূত দিক কী, আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যে যোগাযোগ, তারচেয়ে আমাদের দূরের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বেশি ভালো। যেমন ধরেন, আমরা যদি নেপালে যেতে চাই, তাতে যে খরচ হবে, তার চেয়ে অনেক কম খরচে মালয়েশিয়া কিংবা ব্যাংকক যাওয়া যায়। সেই সাথে ওসব দেশে যাওয়া আসা করাটাও অনেক সহজ। আবার ধরেন পড়াশুনার জন্যও তো আমরা বিদেশে যাই; মানে জ্ঞানচর্চার জন্য আরকি। সেটাতেও দেখা যায়, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দিকেই আমাদের ঝোঁকটা বেশি। সবাই আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এসব দেশে যেতে পারলেই খুশি। যার ফলে কি হচ্ছে জানেন? আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর সাথে আমাদের যোগাযোগটা হারিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য চিকিৎসা প্রয়োজনে এখনো আমরা সবার আগে ভারতেই যাই। কিন্তু ওটা তো ব্যতিক্রম।
মোদ্দা কথা হলো, আমাদের ভ্রমণের ব্যাপারটা আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এখন আর আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে ঘুরতে যাই না। যেমন আমাদের খুব কাছের একটা দেশ মায়ানমার; কিন্তু ওদের সাথে আবার আমাদের রাজনৈতিক সম্পর্কটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। যাবে কী করে, ওদের প্রাণের নেত্রী অং-সান সু চি’কে যে ওদের সামরিক শাসকরা একদম গৃহবন্দী করে রেখেছে! এমন পঁচা যে শাসক, তাদের সাথে তো আর আমাদের দেশের নেতা নেত্রীরা গলায় গলায় ভাব রাখতে পারেন না। আর তাই মায়ানমারেও আমাদের দেশের খুব কম লোকই ঘুরতে যায়। আবার আমাদের আশেপাশে ভারতের যে রাজ্যগুলি আছে, যেমন ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, এগুলোর মধ্যে এক ত্রিপুরা ছাড়া বাকি জায়গাগুলোতেও কিন্তু খুব একটা যাওয়া হয় না। তুলনায় আমাদের দেশের মানুষ ঢের বেশি যায় ওদেশের কোলকাতা, বোম্বে, মাদ্রাজ, দিল্লি, পাঞ্জাবে। তবে আমার বরাবরই মনে হয়, আমরা যদি আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতিকে বুঝতে যাই, আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতির উপকরণ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে যাই, তাহলে আমাদেরকে আমাদের নিজেদের দেশ, আর আমাদের চারপাশের দেশগুলোকে ভালো করে চিনতে হবে; যেই অঞ্চলে আমাদের পূর্বপুরুষরা বাস করতো, সেই অঞ্চলকে চিনতে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা কোন কোন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিলো জানেন? নিশ্চয়ই বলবেন, কেন, বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ! ঐ তো ভুল করলে। বইয়ে পড়েন না, বাঙালি মিশ্র জাতি। বিদেশ থেকে কতো কতো জাতির লোকজন এসে আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে মিশে গেছে, তবেই না আমরা বাঙালি হয়েছি। কিন্তু তার আগে যারা এই অঞ্চলে বাস করতো, তারাই না আমাদের প্রকৃত পূর্বপুরুষ, তাই না? সে কিন্তু অনেক আগের কথা, তখনো মহানবী (সঃ) এর জন্মই হয়নি! মানে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, তাঁরা মুসলমান ছিলেন না। আমাদের মধ্যে যারা মুসলমান, তাদের পূর্বপুরুষরা মুসলমান হয়েছেন তুরস্কের লোকেরা, মানে তুর্কিরা বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করার পর। মাথা চুলকোতে লেগে গেলেন নাকি? আরে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী’র নাম শোনেননি? যেমন ইয়া লম্বা নাম, তেমন ইয়া লম্বা দেহ, তেমনি ইয়া লম্বা হাত। তিনিই তো প্রথম মুসলমান, যিনি বাংলার ক্ষমতা দখল করেন। আর তারপরেই না এখানকার মানুষ আস্তে আস্তে মুসলমান হতে শুরু করলো। তার আগে এদেশের মানুষ ছিলো সনাতন ধর্মালম্বী (হিন্দু)। আর তারও আগে ছিলেন বৌদ্ধ। পাল রাজাদের নাম শোনেননি? ঐ যে গোপাল, ধর্মপাল? আরে, আস্ক দ্য কিডজ ভাইয়াতে আপনারা সম্রাট অশোকের কলিঙ্গের যুদ্ধের গল্প শুনেছেন না? সেই সম্রাট অশোকও তো ছিলেন পাল বংশের রাজা! এই পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ। আর তাদের পরে যে সেন রাজারা রাজত্ব করলেন, তারা ছিলেন হিন্দু।
তো, আমাদের সেই বৌদ্ধ পূর্বপুরুষরা ছড়িয়ে ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গেরও বেশি অঞ্চলে। তারা উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশেও ছিলেন; মানে এখনকার নেপাল, ভূটান, তারপর ভারতের আসাম, মেঘালয়, সিকিম, ত্রিপুরা রাজ্যেও ছিলেন। হলো কি, সেন রাজারা যখন রাজত্ব শুরু করলেন, তখন রাজা যেহেতু হিন্দু, কাজে কাজেই প্রজাদের মধ্যে যারা হিন্দু, তারা একটু বেশি সুবিধা পেতে লাগলেন। আর বৌদ্ধ পণ্ডিত আর সম্ভ্রান্ত বংশের লোকেদের আর আগের মতো কদর রইলো না। উল্টো সেন রাজারা তাদের উপর কিছুটা রুষ্টই ছিলেন; সেন রাজারা তো আর এদেশের মানুষ ছিলেন না, তাদের হয়তো মনে হতো, এরা তো অন্য ধর্মের লোক, মানে আমাদের শত্রুও হতে পারে। সব মিলিয়ে সেই বৌদ্ধ পণ্ডিত আর সম্ভ্রান্ত লোকেরা এখনকার বাংলায় না থেকে উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে, নেপালে, ভূটানে, তারপর ভারতের আসামে, মেঘালয়ে, সিকিমে গিয়ে বসতি গাড়লেন। আবার একই ঘটনা ঘটলো মুসলমানরা এদেশের ক্ষমতা দখল করে নিলে। এবার হিন্দু পণ্ডিত আর সম্ভ্রান্ত লোকেরা চলে গেলেন, বসতি গাড়লেন ঐ নেপাল, ভূটান, ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, এরকরম নানা জায়গায়। তার মানে কি দাঁড়ালো? আমাদের আসল সংস্কৃতি যদি আমাদের জানতেই হয়, আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে চিনতেই হয়, আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতির উপকরণকে যদি খুঁজে পেতেই হয়, তাহলে আমাদের আশেপাশের এই অঞ্চলগুলো ঘুরে ঘুরে চেনা ছাড়া, মানে ভ্রমণ করা ছাড়া কোনো গতি নেই! এদের সাথে যে আমাদের সাংস্কৃতিক বন্ধনের একটা সূত্র আছে, একটা আত্মার বন্ধন আছে! 

undefined
এসব কারণে তো আমার নেপালে যাওয়ার একটা ঝোঁক বরাবরই ছিলো। আরো কয়েকটা কারণ ছিলো। প্রথমত, বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে পুরোনো যে উপকরণ চর্যাপদ ৫১টা কবিতার একটি সংকলন, সেই কবিতাগুলি নেপালে পাওয়া গিয়েছে। এই চর্যাপদ কতোদিনের পুরোনো জানেন? প্রায় ১ হাজার কি তারচেয়েও বেশি দিনের পুরোনো। এ নিয়ে অবশ্য পণ্ডিতরা একমত হতে পারেননি, তবে সবাই মেনে নিয়েছেন যে এটা মোটামুটি ৮০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে লেখা। আগেকার বই কখনো দেখেছেন? সেগুলো কিন্তু এখনকার বইগুলোর মতো বাঁধানো ছিলো ন। বাঁধাই করবে কি করে, গুটেনবার্গ তো ছাপাখানাই আবিষ্কারই করলেন এই ক’দিন আগে! সেগুলো ছিলো হাতে লেখা পুঁথি। আর সেই পুঁথিগুলোর কিছু মজাও ছিলো। যেমন ধরেন, পুঁথিগুলো তো হাতে লিখতো, তাই এগুলোতে লেখা হতো একটানা, দুই শব্দের মাঝখানে কোনো ফাঁকা থাকতো না। মজার এখানেই শেষ না, পুঁথির লাইন কোন দিক থেকে শুরু হবে তারও কোনো বাঁধাধরা নিয়মও ছিলো না। পুঁথি লেখকের, মানে পুঁথিকারের যদি ভালো লাগে তাহলে সবগুলো লাইন বাম দিক থেকে শুরু করতো, কিংবা এক লাইন বাম দিক থেকে শুরু করে ডান দিকে শেষ করে আবার তার পরের লাইন ডান দিক থেকে বাম দিকে, এভাবেও অনেকে লিখতো! তো এই হাজার বছরের পুরোনো চর্যাপদের পুঁথিটি নেপাল থেকে আবিষ্কার করে আমাদের এখানে নিয়ে আসেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নামের এক পণ্ডিত। সে এক বিশাল গল্প, সে না হয় আরেকদিন বলবো।

এ তো গেলো একটা কারণ। আরেকটা কারণ কি জানো, আমার বরাবরই মনে হতো, চর্যার মতোন আরো অনেক সাহিত্য উপকরণ হয়তো নেপাল এবং তার আশেপাশে পাওয়া যেতে পারে। আর আগে যারা ওখানে এগুলির সন্ধান করেছেন, তারা সেগুলি কিছু কিছু পেয়েছেনও বটে। আমার আবার এসব ব্যাপারে বেশ আগ্রহ। তো সবকিছু মিলিয়ে ঠিক করলাম, নেপালে যাওয়াই সই।

কিন্তু নেপালে যাওয়ার সমস্যাটা হচ্ছে, সেখানে যদি স্থলপথে যেতে হয়, তাহলে কোলকাতা, অথবা দিল্লি আগ্রা যাওয়ার পথ যতোটা ভালো, নেপালের যাওয়ার পথটা অতো ভালো না। এ তো গেলো একটা সমস্যা। আরেকটা বড়ো সমস্যা হচ্ছে, নেপালে যেতে হলে ভারতের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সুতরাং যাওয়ার সময় একবার আর আসার সময় একবার, মোট দু’বার ভারতীয় ভূখণ্ড অতিক্রম করতে হবে। আর দু’বারই ভিসা পাসপোর্ট ইত্যাদির একটা জটিলতা থাকে। তবে যদি আকাশপথে যাওয়া যায়, মানে প্লেনে যাওয়া যায়, তাহলে এখনো আগে ভিসা না নিয়ে নেপালে গিয়ে পরে ভিসা করিয়ে নিলেও হয়।

তো ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আমি নেপাল গেলাম। আগেই তো বলেছি, নেপালে যাওয়ার জন্য স্থলপথটা খুব একটা ভালো নয়, যেতে আসতে ভারত পেরুতে হয়, তাতে আবার ভিসা পাসপোর্টের ঝামেলা; সেই তুলনায় আকাশপথ বেশ ভালো। তাতে আবার পরে ভিসা করার একটা সুবিধাও আছে। সুতরাং, আমি প্লেনে করেই নেপাল গেলাম।

আমার নেপাল যাওয়ার যে অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো সে তো আগেই বলেছি। সত্যি বলতে কি, আমার ওখানে যাওয়ার কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিলো। একটা হচ্ছে ৮-১০ দিন ওখানে থেকে দেশটাকে দেখা, দেশটাকে চেনা, দেশটাকে জানা। আরেকটা হচ্ছে আমাদের সাহিত্যের সভ্যতার পুরোনো উপকরণগুলো এখনো ওখানে আছে কিনা, বা আর নতুন কোনো উপকরণ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা, এগুলো দেখা।

তো ডিসেম্বর মাস আবার নেপালে খুবই ঠাণ্ডার সময়। হিমালয়ের বরফাবৃত অঞ্চল ওখান থেকে খুবই কাছে কিনা। ডিসেম্বরের ঠাণ্ডাতে নেপালের লোকজনই খুব কষ্ট পায়, আর আমার তো একদম জমে যাওয়ার অবস্থা! ইউরোপেও এরকমের ঠাণ্ডা আছে, কিন্তু ইউরোপে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচারও অনেক উপায় আছে। ওখানে ঘরে ঘরে উষ্ণতার ব্যবস্থা মানে হিটিং সিস্টেম আছে, রাস্তা ঘাটে চলাফেরার জন্য উপযুক্ত কাপড় চোপড় আছে। নেপালেও এগুলো আছে, কিন্তু অতোটা ভালো না।

নেপালে গিয়ে আমি ওই দেশের রাজধানী কাঠমুণ্ডুর থামেল বলে একটা জায়গায় উঠলাম, সেখানকার একটা হোটেলে। এই থামেলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই এলাকাটা হচ্ছে পর্যটকদের এলাকা। প্রতি বছর হিমালয় দেখতে সারা পৃথিবী থেকে প্রচুর পর্যটক আসে নেপালে। এই পর্যটকদের বেশির ভাগই আসে শীতের দেশ থেকে, আর ওসব দেশে ডিসেম্বরে ক্রিসমাসের একটা লম্বা ছুটি থাকে, সুতরাং তারা এ সময়টাতেই আসে বেশি। ফলে এই সময়ে থামেলে প্রচুর ভীড় থাকে, অনেকটা আমাদের দেশের ঈদের সময়ের গাউসিয়ার মতো, কিংবা গুলিস্তানের মতো, কিংবা ছুটি হলে সবাই যখন বাড়ি যায় তখনকার সদরঘাটের মতো, প্রচণ্ড ভীড়। আর আমাদের দেশের মতোই সেখানেও কিন্তু ফুটপাথে বিক্রেতারা বসে। ঐ আমাদের হকারদের মতো আরকি! আর এত্তো মানুষ, পুরো রাস্তায় মানুষ গিজগিজ করতে থাকে, পুরো রাস্তা দিয়েই মানুষ হাঁটে। আর এই থামেলের একটা অদ্ভূত বিষয় হল, এখানে আবার গাড়ি খুবই কম। আর যাও বা দু-একটা গাড়ি আসে, সেগুলো মানুষের পিছেপিছেই যায়, খুব বেশি হর্ন দিয়ে মানুষকে বিরক্তও করে না।

যেহেতু মানুষ অনেক বেশি থাকে, কাজেই এ সময় থামেলে থাকার জায়গারও খুব সমস্যা হয়। ছোটো বড়ো হোটেল তো বটেই, যে সব মানুষেরা বাসায় কয়েক দিন থাকার জন্য রুম ভাড়া দেয়, সেগুলোতেও জায়গা পাওয়া যায় না, এত্তো ভীড় হয়। তবে থাকার কষ্ট হলেও খাওয়ার কোনো সমস্যাই হয় না। ওখানে মোটামুটি সব ধরনের খাবারই পাওয়া যায় ভারতীয় বা ইন্ডিয়ান খাবার, তোমাদের প্রিয় ইউরোপিয়ান ফাস্ট ফুড, তারপর নেপালি খাবার, চাইনিজ খাবার, তিব্বতি খাবার, পূর্ব ভারতীয় খাবার, সবই পাওয়া যায়। আবার পকেটের কথা চিন্তা করলে সস্তা খাবার, অল্প দামি খাবার, দামি খাবার, সবই আছে। মোদ্দা কথা যেটা, থামেলে থাকাটা বেশ ব্যয়বহুল, কিন্তু খাওয়া দাওয়া যেমন সস্তা আর তেমনি বৈচিত্র্যপূর্ণও বটে।

undefinedতখন ওখানে ঘুরে আমার যেটা মনে হয়েছে, ওখানে মৈথিলি সংস্কৃতি আর তিব্বতি সংস্কৃতির একটা মিশ্রণ রয়েছে। নেপাল রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু রাষ্ট্র। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড! ওখানে যতো না ধুতি পরা হিন্দুদের চোখে পড়লো, তারচেয়ে বেশি দেখলাম মৈথিলি, তিব্বতি লোক। তিব্বতি লামা, বজ্রযানী, এরা আর মৈথিলি বৌদ্ধদের সংখ্যাই মনে হলো ওখানে বেশি!

থামেলের আরেকটা জিনিস আমি খেয়াল করেছি, ওখানে দোকান গুলোর মধ্যে জামা কাপড়ের দোকান, আর আর যতো দোকান বাজারে দেখা যায়, এসবের চেয়ে চিত্রকলা বা ছবির দোকান, তারপর ছোটো ছোটো ভাস্কর্যের দোকান এগুলোই বেশি। ওখানে সবচেয়ে বেশি আছে বোধহয় ছবির দোকান। তারপর ছোটো ছোটো ভাস্কর্যের দোকানও অনেক আছে। আর কতোরকমের যে ভাস্কর্য পাওয়া যায়! লোহার ভাস্কর্যের দোকান, পিতলের ভাস্কর্যের দোকান, পাথরের ভাস্কর্যের দোকান, তারপর বাঁশের ভাস্কর্যের দোকান, এগুলো প্রচুর আছে। মানে, ওখানকার ব্যবসা বাণিজ্যের একটা বড় উপাদানই হল শিল্পকলা। এটা কিন্তু খুবই ভালো। তোমার বাসার পাশে যদি এরকম বেশ কয়েকটা দোকান থাকতো, বেশ মজা হতো না? আর সবচেয়ে বড়ো কথা, এমনি কয়েকটা দোকান থাকলে যেটা হতো, না কিনলেও তুমি অন্তত প্রতিদিন ওগুলো দেখতে পারতে। ফলে তোমার অজান্তেই তোমার ভেতরে ছবি আর ভাস্কর্যের ব্যাপারে বেশ একটা টনটনে ধারণা হয়ে যেতো।

তারপর ওখানে আরো মজার মজার ব্যাপার আছে। হিমালয়ের এক দুর্গম অঞ্চলে গিয়ে দেখি কী, একটা মন্দির! দেবী দূর্গাকে চেনেন না? সেই দেবী দূর্গার মন্দির। তারপর কাঠমুণ্ড শহরের একটা বিখ্যাত মন্দির হচ্ছে রক্তকালী মন্দির। যদি কখনো নেপালে যাওয়া হয়, তবে এই মন্দির কিন্তু দেখতে ভুলবেন না।

আচ্ছা, অনেক তো নেপালের গল্প হলো। আবার চলেন চর্যাপদের কথায় ফিরে আসা যাক। চর্যাপদ বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হলেও সেটার ভাষা কিন্তু আমাদের এখনকার বাংলা ভাষার মতো না। তখন আমাদের বাংলা ভাষাটা কেবল জন্ম নিচ্ছে কি নিয়েছে। ছোট্ট শিশু যেমন বড়ো না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যায় না, ও আসলে কি রকম হবে, খাটো হবে না লম্বা হবে, হাত পা গুলো কেমন হবে, তারপর স্বভাব কেমন হবে, কথা মিষ্টি হবে না পচা হবে, ভাষার ব্যাপারটাও ঠিক তেমনি। ভাষাও মানুষের মতোই অনবরত বদলে যেতে থাকে। শিশুকালে ভাষা অনেকটাই অস্থির থাকে। বয়স যতো বাড়তে থাকে, ভাষা ততোই সুস্থির হতে থাকে, তাকে ততো সহজে চেনা যায়। তবে মানুষের মতো ভাষা একদিন বুড়িয়ে মরে যায় না। যতোদিন সে বদলাতে পারে, মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, ততোদিনই ভাষা বেঁচে থাকে। আর তাই তো, রাশভারী সংস্কৃত ভাষা মানুষের মুখের ভাষার সাথে তাল মিলাতে না পেরে কবেই পটল তুলেছে, ওই ভাষায় আর কেউ কথাও বলে না, গল্পও লেখে না। আর আমাদের মিষ্টি বাংলা ভাষা মানুষের জীবন ও আচার ব্যবহারের পরিবর্তনের সাথে সাথে একটু একটু করে বদলে গিয়ে দিব্যি বেঁচে তো আছেই, তাতে কতো কতো ভালো ভালো গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটকও লেখা হচ্ছে।

তো যা বলছিলাম, চর্যাপদের ভাষাটা ঠিক আমাদের পরিচিত বাংলা ভাষা নয়। হঠাৎ শুনলে সেই ভাষাটা কেমন যেনো অচিন অচিন মনে হয়। একটা চর্যা শোনালে ব্যাপারটা ভালো বুঝতে পারবেন। একটা চর্যায় আছে, ‘কাআ তরুবর পঞ্চবি ডালঅ।’

খুব অদ্ভূত লাগছে না চরণটা? কিন্তু একটু খেয়াল করলে বোঝা যাবে, চরণটার মানে হচ্ছে, ‘কায়া বা শরীর হচ্ছে তরু বা গাছের ন্যায়, এর পাঁচটা ডাল আছে’। এই ভাষাকে আমরা বাঙালিরা বলছি বাংলা ভাষায় রচিত। আবার আসামিরা দাবি করছে এটা আসামি ভাষায় রচিত, উড়িয়ারা বলে উড়িয়া ভাষায়, মৈথিলিরা বলে মৈথিলি ভাষায়, ভোজপুরিয়ারা বলে তাদের ভোজপুরিয়া ভাষায়, নেওয়ারিরা বলে তাদের ভাষায় (নেওয়ারি ভাষা) রচিত। এমনকি হিন্দি ভাষাভাষীরাও বলে, এটা তাদের ভাষায় রচিত। আসলে হয়েছে কি, চর্যা যখন লেখা হচ্ছিল, তখন এই সবগুলি ভাষা অনেকটা একই রকম ছিলো। এই সবগুলি ভাষাই একই ভাষা বংশের সদস্য তো, তাই এদের মধ্যে অনেক মিল আছে। হিন্দি ভাষার সাথে যে আমাদের ভাষার অনেক মিল আছে, সে তো আপনারা সবাই খেয়াল করেছো। মজার ব্যাপার কি জানেন? এই সবগুলো ভাষার মধ্যে বাংলার সাথে হিন্দিরই মিল সবচেয়ে কম। তাহলেই বোঝেন, অন্য ভাষাগুলোর সাথে আমাদের মিষ্টি মধুর বাংলা ভাষার কত্তো মিল! আর তখন তো এই সবগুলো ভাষাই শিশুকালে। ফলে যেটা হলো, সবগুলো ভাষার সঙ্গেই চর্যার ভাষার মিল পাওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন হলো, চর্যাপদ যদি আমাদেরই হয়, তাহলে আমাদের দেশের এই পুঁথিটা নেপালে গেলো কি করে? ঐ যে আগেই বলেছিলাম, আমাদের দেশে যখন হিন্দু শাসন প্রতিষ্ঠা হলো, পরে আবার তুর্কি বা মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠা হলো, তখন অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের একটা বড়ো অংশ ছিলো বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক। পালিয়ে তারা নেপাল, ভূটান, সিকিম, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এরকম নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়লেন। এদেরই কেউ বা কোনো দল হয়তো এই চর্যা বা গানগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন নেপালে। তো কোনো ভাবে চর্যাটা ওখানে গেছে এবং সেটা কোনো এক সময়ে নেপালের রাজদরবারে ঠাঁই পেয়েছিলো। পরে নেপালের রাজদরবারের সব পুঁথি ওরা ওদের যে ন্যাশনাল আর্কাইভ, সেখানে নিয়ে গিয়েছিলো। আমি সেই আর্কাইভে গিয়েছিলাম, আমাদের সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনটিকে একটু দেখতে, ছুঁয়ে দেখতে, পড়ে দেখতে! সুদীর্ঘ দু’দিন চেষ্টা করেও সেই পুঁথিটার কোনো সন্ধান পাওয়া গেলো না! পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলাম, আমার আগেও দু’একজন চেষ্টা করেছিলো, আমার পরেও আমি শুনেছি দু’একজন গিয়েছিলো, তারা কেউ পুঁথিটার সন্ধান পাননি; হতে পারে পুঁথিটা এমন কোথাও আছে যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তেমন হলেই ভালো, অথবা পুঁথিটা নষ্ট হয়ে গেছে।

তবে এই পুঁথির সাধনা যারা করেন, তাদেরকে যে সহজিয়া বলা হতো, সে তো আগেই বলেছি। এখন সেই বৌদ্ধ সহজিয়াদেরই একটি ধারা আছে, বজ্রযানী। আর এই বজ্রযানী ধারার পণ্ডিতদের বলা হয় বজ্রাচার্য। তারা যখন ঐ বজ্রসাধনা করেন, তখন চর্যাপদের গানগুলো বা চর্যাগুলোর মতো এক ধরনের গান সেখানে অনেকটা মন্ত্রের মতো ব্যবহার করেন। আবার যখন তারা বজ্রনৃত্য করেন, নৃত্যের অনুষঙ্গ হিসেবেও এইরকম গান ব্যবহার করেন। অবশ্য তারা জানেনই না যে, প্রাচীন বাংলা বা পূর্ব ভারতীয় ভাষার সাথে তাদের এক রকম সম্পর্ক আছে। এই বজ্রাচার্যরা মোটামুটিভাবে সকলেই নেওয়ার। মনে করা হয়, এরা পূর্ব ভারত থেকে, মানে আমাদের এই দিক থেকে বিভিন্ন সময় নেওয়ার উপত্যকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করেছেন। এদের থেকে নেপালিরা আবার খানিকটা ভিন্ন। এখন, বজ্রাচার্যরা তাদের মন্ত্র হিসেবে যেই গান করেন, তারপর নৃত্যের অনুষঙ্গ হিসেবে যেই গান করেন, এই গানগুলোর সাথে বাংলা ভাষার অনেক মিল আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই মিলটা আছে কেনো? আমার অনুমান, আমাদের যে পুরোনো চর্যাগানগুলো, সেগুলিই পরবর্তী সময়ে, ৮০০-১০০০ বছরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে এই বজ্রগানগুলো তৈরি হয়েছে।
undefined
কিন্তু সমস্যা হলো ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হলে আমাদেরকে আরো বেশি বেশি করে নেপালে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। তাহলে হয়তো একদিন ঠিকই কেউ প্রমাণ করে দেবে, এই বজ্রগানগুলোও আমাদের বাংলা ভাষারই সম্পদ। কেবল দূরে দূরে থাকার কারণে বদলানোর সময় ঠিক আমাদের বাংলার মতো না হয়ে অন্য রকম হয়ে গেছে। অনেকটা প্রবাসে বড়ো হওয়া সন্তানের মতোন।

আর তারচেয়েও বড়ো কথা, নেপাল তো আমাদেরই প্রতিবেশি। আর সে দেশের সভ্যতা সংস্কৃতিও কিন্তু আমাদেরই মত। হবে না, এক সময় যে আমাদের এখান থেকেও অনেকে গিয়ে ঐ দেশে বাসস্থাপন করেছে! সুতরাং, ওদেরকে না চিনলে, ওই দেশ না দেখলে আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতিকেও তো আমরা চিনতে পারবো না। ওরা কিন্তু আমাদের অনেক ঐতিহ্যই সংরক্ষণ করে। যেমন ধরেন, আমি ওখানকার এক পুরোনো পাণ্ডুলিপির দোকানে গিয়ে দেখি চণ্ডীমঙ্গলের অনেকগুলি পুঁথি তাদের কাছে আছে। আবার ‘স্বয়ম্ভূ’ বলে ওই দেশে একটা জায়গা আছে। সেই জায়গার বিশেষত্ব কি জানেন? সেখানে বসে মুনিদত্ত নামে এক পণ্ডিত চর্যাপদের কবিতাগুলোর টীকা লিখেছিলেন। আসলে চর্যাপদের কবিতাগুলো তো বৌদ্ধ সহজিয়াদেরই সাধন মন্ত্র ছিলো। পণ্ডিতরা এগুলো লিখতেন তাদের শিষ্যদের উদ্দেশ্যে। আর তাই এগুলো ছিলো অনেকটা ধাঁধার মতো; সাধারণভাবে পড়লে একটা অর্থ পাওয়া যেতো। কিন্তু আসল অর্থ অন্য রকম, ধাঁধার মতো লুকোনো থাকতো। মুনিদত্ত এই কবিতাগুলোর সেই লুকোনো অর্থগুলোই টীকা আকারে লিখে দিয়েছিলেন। আর যেখানে এগুলো লিখেছিলেন, সেই স্বয়ম্ভূতে এখন বজ্রাচার্যরা বাস করেন। আর আগেই তো বললাম, ধারণা করা হয়, তাদের অনেকেই আসলে আমাদের এই অঞ্চল থেকে, মানে পূর্ব ভারত থেকে ওখানে গিয়েছিলেন। আর ওখানে থাকতে থাকতে এখন পুরোদস্তুর নেওয়ারি হয়ে গেছেন। তাহলে ওখানে যে চর্যাপদের মতো আমাদের সাহিত্য সভ্যতার আরো কোনো উপকরণ নেই, তা কে বলতে পারে! আর বললামই তো, আমার মনে হয়েছে, ওদের এই বজ্রগানগুলোও সেই চর্যাপদের সময়েরই অন্য অন্য চর্যা গানের ভাঙা রূপ।

এই জন্যই বলছিলাম, অনেক দূরের দূরের দেশে ঘুরতে না গিয়ে আমাদের আশেপাশের অঞ্চলে ঘুরতে যাই, তাতে কিন্তু আখেরে আমাদেরই লাভ; আমরা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে যেমন জানতে পারবো, তেমনি আমাদের সাহিত্যের নতুন নতুন কত কিছু জানতে পারবো! আর আমাদের আশেপাশের এই দেশগুলোও কিন্তু কম সুন্দর না। আমাদের দেশেও যেমন অনেক জায়গা আছে, অনেক সুন্দর, কিন্তু আমরা জানি না বলে যেতে পারি না; আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর ক্ষেত্রে কিন্তু সেই সমস্যা নেই। হিমালয় পর্বতমালার কথা কি আপনারা জানেন না? সেখানকার পাহাড়গুলো কিন্তু সুইজারল্যান্ডের পাহাড় থেকে মোটেও কম সুন্দর নয়। তারপর আমাদের আরেক প্রতিবেশি দেশ ভূটান সেটাও কিন্তু অনেক সুন্দর; সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, মালয়েশিয়ার চেয়ে এই দেশটিও কম সুন্দর না। কেবল যাওয়া আসার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাই যদি না থাকে, তবে আর ভ্রমণের রোমাঞ্চ থাকলো কোথায়? অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য আর নতুনকে জানা এই তিনের সম্মিলন হলেই না সেটা একটা আদর্শ ভ্রমণ হবে, তাই না?

»» read more

লাল সমুদ্র সৈকত


অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি লাল রঙের সমুদ্র সৈকত, যা অবস্থিত প্যাঞ্জিন শহরে, আর এই শহর চিনে অবস্থিত। চিনের উত্তর অঞ্চলে এই সমুদ্র সৈকত। এটা বিশ্বের সব থেকে বড় এবং সংরক্ষিত নিম্নাঞ্চল যা কিনা সারা বছরই পানির নিচে থাকে। সম্পূর্ন সৈকত আবৃত হয়ে আছে লাল রঙ্গের আগাছায় বা সমুদ্র ঘাসে। এখানে পাওয়া যায় কিছু দূর্লভ ঘাস এবং কিছু প্রানী। যা বিশ্বের আর কোথাও দেখা মিলে না। এখানকার অত্যাধিক লবনাক্ততা এবং মাটির মধ্যে অত্যাধিক ক্ষার থাকার কারন হিসেবে ধরা হয় এখানকার ঘাস বা আগাছা গুলির এরূপ লাল রঙের কারন হিসেবে। ১০০ স্কয়ার কিমি এলাকা জুড়ে আছে এই লাল রঙের আগাছা বা ঘাস যা কিনা এই সমুদ্র সৈকতকে দিয়েছে এক অপরূপ সৈন্দর্য। এখানে উল্লেখ যোগ্য কিছু পাখি পাওয়া যায় যা সত্যিকার অর্থে বিরল। যেমনঃ লাল মুকুট বক এবং Saunders' gulls এই দুটি পাখি। এটি চায়নার অন্যতম ট্যুরিষ্ট স্পট। এখানে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক ট্যুরিষ্ট আসে কেননা এ সময় সব থেকে বেশী এলাকা জুড়ে থাকে এই লাল রঙ্গে রাঙ্গা ঘাস।

তাহলে আসুন দেখে নেওয়া যাক এই লাল রঙ্গে ঘেরা পৃথিবীর একমাত্র সমুদ্র সৈকতের আরো কিছু ছবি,

»» read more

রেটসহ Teletalk 3G মোবাইল Broadband Plan



Speed Up to
 Usage
Amounts
Validity
Subscription Code
128kbps
10MB
Tk.8
1day
D7
2GB
Tk 350
30 days
D11
UNL
Tk.650
30 days
D12
256kbps
1GB
Tk. 175
10 days
D14
4GB
Tk. 600
30 days
D16
UNL
Tk.1050
30days
D17
512kbps
1GB
Tk.200
10 days
D19
2GB
Tk. 500
30days
D20
10GB
Tk. 1000
30days
D22
1mbps
4GB
Tk. 800
30days
D25
8GB
Tk. 1200
30days
D26
2mbps
10GB
Tk. 2500
30 days
D27

* 15% VAT will be included


Note:
  • To subscribe any 3G prepaid data plan, write ‘Subscription Code’ and send to 111. For example, to subscribe Monthly 2GB Data plan for 512kbps speed, write D20 & send to 111 
  • After depletion of data pack, pay per use policy will be applicable till subscriber subscribes any other data plan 
  • If any volume is not used during the validity period, it will expire and will not be carried over to the next month 
  • The default data speed is up to 512kbps and can be enhanced up to 2mbps as per data bundle pack 
  • For Unlimited package, fair policy will be applicable
»» read more
free counters
^ Back ToTop